ঢাকার সাভারে কার্যক্রম আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের আট নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সাভার সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তুহিন এবং আমিনবাজার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. আকাশ রয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোররাত পর্যন্ত সাভারের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সকালে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ বলছে, সাভারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চলছে।
গ্রেপ্তার আটজন হলেন—সাভার সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালটেক এলাকার শেখ জালালের ছেলে শেখ তুহিন (৩২), আমিনবাজার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার কামুরা এলাকার মহিউদ্দিনের ছেলে মো. আকাশ (৩৯), রাজধানীর মিরপুর থানার দক্ষিণ পাইকপাড়া এলাকার বাবুল খানের ছেলে রাজু খান (৩৯), ঝালকাঠি সদর থানার নইআড়ি এলাকার আসমত আলী খানের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৫০), সাভার পৌরসভার ডগরমোড়া এলাকার শফি মোল্লার ছেলে রুহুল আমিন রাজিব (৩৮), গাইবান্ধার সাঘাটা থানার বেড়াগ্রাম এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম (২৪), মাদারীপুরের শিবচর থানার চরচন্দ্রা গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে মোহাম্মদ আলী (৩৬) এবং মানিকগঞ্জ সদর থানার শিবালীপাড়া এলাকার আজাদ মোল্লার ছেলে মুরাদ হোসেন (৪৫)।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে সাভার এলাকায় ঝটিকা মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নাশকতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামতও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর সাভারের আনন্দপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে আরও সাতজনকে আটক করার খবর পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছিল, তাদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস থেকে পাঁচটি বাঁশের লাঠি ও একটি ব্যানার জব্দ করা হয়। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে শেখ তুহিনসহ কয়েকজনের নামও আসে।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বা তাদের আইনজীবীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্যেই নির্ধারিত হবে।


