খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই আগস্ট ২০২৬, ৩:১৭ পিএম
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত সাদা বলের সিরিজ নিয়ে এখনো আশা ছাড়েনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের সম্পর্কের নতুন করে তৈরি হওয়া টানাপোড়েনে সিরিজটি সময়মতো মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
সূচি অনুযায়ী, তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে আগামী ২৮ আগস্ট বাংলাদেশে আসার কথা ভারতীয় ক্রিকেট দলের। সেপ্টেম্বরে সিরিজের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বাস্তবতা নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। ফলে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সফরটি হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিসিবির কর্মকর্তাদের একটি অংশ এখনো মনে করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্কের উত্তেজনা কিছুটা কমে আসতে পারে। সেই আশাতেই সিরিজ আয়োজনের প্রস্তুতি পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া হয়নি। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই আশাবাদকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।
বিশেষ করে দিল্লি থেকে আওয়ামী লীগের ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গত ৮ আগস্ট বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে ভারতের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে, যা বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে, তখন দুই দেশের সম্পর্ককে বন্ধুত্বপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব ক্রিকেটেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে সিরিজটি আয়োজন নিয়ে বেশ কিছু ইতিবাচক যোগাযোগ হয়েছিল। বছরের শুরুতে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, ভারত সিরিজকে সেই দূরত্ব কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
সিরিজটি নিয়ে বিসিবি ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে একাধিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। গত মাসে স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসির সভায় আইসিসি সভাপতি জয় শাহ এবং বিসিসিআইয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের ইতিবাচক আলোচনা হয়। পরে দুবাইয়ে আইসিসির ফ্র্যাঞ্চাইজি কমিটির সভার সময়ও ভারতীয় বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। এর পর তামিম ইকবালের ভারত সফরও দুই দেশের ক্রিকেটীয় যোগাযোগ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিল।
এসব যোগাযোগের কারণে সিরিজ আয়োজন নিয়ে বিসিবির আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দিল্লিতে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নেওয়ায় সেই আশাবাদ অনেকটাই চাপে পড়েছে।
ভারতীয় দলকে বাংলাদেশে এনে পূর্ণাঙ্গ সাদা বলের সিরিজ আয়োজন শুধু মাঠের ক্রিকেটের দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বাণিজ্যিকভাবেও এর মূল্য অনেক। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে সাধারণত দর্শক আগ্রহ, সম্প্রচারস্বত্ব, পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রচারণার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। ফলে এমন একটি সিরিজ আয়োজক বোর্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজস্বের উৎস হতে পারে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও ভারত সিরিজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটীয় সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম—দুই ক্ষেত্রেই বড় সুযোগ।
তবে রাজনৈতিক বাস্তবতার কাছে ক্রিকেটীয় পরিকল্পনা কতটা টিকবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সিরিজ শুরুর আগে হাতে সময়ও খুব বেশি নেই। ভারতীয় দলের ২৮ আগস্ট বাংলাদেশে আসার কথা থাকায় সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে দ্রুত অগ্রসর হতে হবে। এর সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সরকারি পর্যায়ের অবস্থান এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কও বিবেচনায় রাখতে হবে।
বিসিবির এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি কঠিন হলেও সিরিজ বাতিল হয়ে গেছে—এমন অবস্থায় এখনো পৌঁছানো যায়নি। বোর্ড নিজেদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
ফলে আপাতত ভারত সিরিজকে ঘিরে বিসিবির অবস্থান দ্বিমুখী—আশা এখনো আছে, কিন্তু অনিশ্চয়তাও প্রবল। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পারে, সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে ভারতীয় দলের বহুল প্রতীক্ষিত সফর বাস্তবে মাঠে গড়াবে কি না।
মন্তব্য