খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই আগস্ট ২০২৬, ৩:২৫ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে নাথান লায়নকে নিয়ে তৈরি হয়েছে স্বস্তির আবহ। দীর্ঘ আট মাস প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে থাকা অভিজ্ঞ অফ স্পিনার ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁর সতীর্থ ট্র্যাভিস হেড। ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন দিন পর শুরু হতে যাওয়া টেস্টেই লায়নের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার ডারউইনে অনুশীলনের সময় লায়নের করা একটি বলের মুখোমুখি হয়েছিলেন হেড। বলটি তাঁর ব্যাটের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ঘটনাটি নিয়ে হাস্যরস করে হেড বুঝিয়ে দিয়েছেন, লায়নের বোলিংয়ে এখনো যথেষ্ট ধার রয়েছে। সতীর্থের এমন মন্তব্য অস্ট্রেলিয়া দলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। দীর্ঘ বিরতির পর ফিরলেও লায়নের প্রস্তুতি নিয়ে দলের ভেতরে বড় কোনো সংশয় নেই বলেই ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে অ্যাডিলেডে অ্যাশেজ সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন লায়ন। সেই চোটের পর থেকে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তাঁকে বল হাতে দেখা যায়নি। ৩৮ বছর বয়সী এই অফ স্পিনারের জন্য সময়টা সহজ ছিল না। তবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে গত সপ্তাহে ব্রিসবেনে ম্যাচ সিমুলেশনে অংশ নিয়ে নিজের প্রস্তুতির প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। সেই অনুশীলন ম্যাচই তাঁকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।
লায়নের প্রত্যাবর্তন নিয়ে হেডের কথাতেও ফুটে উঠেছে তাঁর সতীর্থের মানসিক প্রস্তুতির বিষয়টি। দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পর দলের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে লায়নই মাঠে ফিরতে বেশি আগ্রহী—এমনটাই মনে করেন হেড। কোচিং স্টাফ ও সতীর্থদের কাছ থেকেও তাঁর প্রস্তুতি নিয়ে ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তাঁর খেলার সম্ভাবনা বেশ জোরালো।
বাংলাদেশ অবশ্য লায়নের কাছে অপরিচিত প্রতিপক্ষ নয়। বরং এই দলের বিপক্ষেই তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স রয়েছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সফরে দুই টেস্টের সিরিজে ২২টি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। বিদেশের মাটিতে দুই টেস্টের কোনো সিরিজে সেটি তাঁর সর্বোচ্চ উইকেটসংখ্যা।
ঢাকায় সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়া হেরে যাওয়ার পর চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্টে লায়ন হয়ে ওঠেন ম্যাচের নায়ক। একাই ১৩টি উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজে সমতা ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি এবং ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান। এশিয়ার মাটিতে কোনো সফরকারী বোলারের এক টেস্টে ১৩ উইকেট নেওয়ার কীর্তি এর আগে ইয়ান বোথামের ছিল। লায়নের সেই পারফরম্যান্স তাই বাংলাদেশের বিপক্ষে তাঁর সামর্থ্যের একটি শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে আছে।
এবারের প্রেক্ষাপট অবশ্য ভিন্ন। ডারউইনে ২২ বছর পর টেস্ট ক্রিকেট ফিরছে। উত্তর অস্ট্রেলিয়ার শুষ্ক শীতকালীন আবহাওয়া উইকেটের চরিত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। ম্যাচের শুরুতে পিচে তুলনামূলক সমান বাউন্স দেখা গেলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ফাটল তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেই ফাটল স্পিনারদের জন্য বাড়তি সহায়তা তৈরি করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার কেন রিচার্ডসনের পর্যবেক্ষণও এই সম্ভাবনার সঙ্গে মিলে যায়। তাঁর মতে, ডারউইনের উইকেট গ্যাবা বা ওয়াকার মতো পরিচিত পেস-বান্ধব, দ্রুত বাউন্স পাওয়া কন্ডিশনের বদলে কিছুটা উপমহাদেশীয় ধাঁচের হতে পারে। অর্থাৎ বল নিচু ও ধীরগতিতে আসতে পারে এবং ম্যাচ যত এগোবে, স্পিনের প্রভাব তত বাড়তে পারে।
এমন উইকেট হলে লায়নের গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে। দীর্ঘ বিরতির পর ফিরলেও তাঁর অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়ার বড় সম্পদ। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে আগের সাফল্য, স্পিন সহায়ক কন্ডিশনে তাঁর কার্যকারিতা এবং দলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হতে পারেন তিনি।
বাংলাদেশের জন্য তাই লায়নের প্রত্যাবর্তন আলাদা চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ দিকে উইকেট যদি ভাঙতে শুরু করে, তখন তাঁর নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন ও দীর্ঘ স্পেলে চাপ তৈরি করার ক্ষমতা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। আর অস্ট্রেলিয়া যদি শুরুতেই তাঁকে একাদশে রাখে, তবে প্রায় আট মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা লায়নের দিকে স্বাভাবিকভাবেই থাকবে বাড়তি নজর।
মন্তব্য