খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
রাজধানীর উত্তরায় ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাওয়ার পথে একটি পেট্রলপাম্পের কর্মীদের কাছ থেকে ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পেট্রলপাম্পের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আল আমিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিমানবন্দর সড়কে ক্রাউন প্লাজার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
ছিনতাই হওয়া অর্থ রাজধানীর উত্তরা এলাকার ডিএল পেট্রলপাম্পের বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পেট্রলপাম্পটির মালিক তাসীন আক্তার হক। তাঁর মা প্রয়াত খুরশীদ জাহান হক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় বোন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান তালুকদার জানান, এ ঘটনায় পেট্রলপাম্পের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ছয় থেকে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় ছিনতাই হওয়া অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার সকালে পেট্রলপাম্পের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আল আমিন, সিএনজি অপারেটর সেলিমুজ্জামান এবং কাভার্ড ভ্যানের চালক খোরশেদ টাকাভর্তি একটি ব্যাগ নিয়ে উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত পূবালী ব্যাংকে যাচ্ছিলেন। তাঁদের বহনকারী কাভার্ড ভ্যানটি বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় ক্রাউন প্লাজার সামনে তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছয় থেকে সাতজন ব্যক্তি এসে পথরোধ করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ছিনতাইকারীরা অস্ত্রের মুখে তাঁদের জিম্মি করে এবং আল আমিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পরে টাকাভর্তি ব্যাগটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তাঁরা। ছিনতাইকারীরা আবদুল্লাহপুরের দিকে পালিয়ে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর আহত আল আমিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেলিমুজ্জামান, খোরশেদ এবং আশপাশের কয়েকজনের সহায়তায় তাঁকে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর শরীরে কোপের আঘাত রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার ধরন এবং বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বহনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, পেট্রলপাম্পের কর্মীরা প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে নগদ টাকা নিয়ে ব্যাংকে যাতায়াত করতেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের এই নিয়মিত যাতায়াত সম্পর্কে ছিনতাইকারীরা আগে থেকেই তথ্য পেয়েছিল কি না, তদন্তে সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের পরিস্থিতি, ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং তাঁদের পালিয়ে যাওয়ার পথ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার তারেক আহমেদ বেগ জানিয়েছেন, ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।
বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ নিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এগোলে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা, অর্থের গতিবিধি সম্পর্কে আগাম তথ্য কারা পেয়েছিল এবং ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
মন্তব্য