খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ১:৫৩ পিএম
নাটোরের লালপুরে তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শুধু ঘরবাড়িই নয়, কৃষি, শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
লালপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার দিনের বেলায় উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ৯ দশমিক ৪২ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ছিল অর্ধেকেরও কম। এর আগের দিন রোববার রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৫ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ পাওয়া যায় ১৫ মেগাওয়াট।
সরবরাহ ও চাহিদার এই বড় ব্যবধানের কারণে লালপুরের বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের। বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে পানির ট্যাঙ্কে পানি তোলার কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
ওয়ালিয়া গ্রামের অটোরিকশাচালক সোহেল আলী বলেন, অটোরিকশা চালিয়েই তাঁর পরিবারের খরচ চলে। কিন্তু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছেন না। ফলে সময়মতো রাস্তায় অটোরিকশা নিয়ে বের হতে না পারায় আয় কমে গেছে। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।
লালপুর গ্রামের গৃহিণী আলিজা পারভীনের অভিযোগ, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ছোট সন্তানদের নিয়ে রাতে স্বাভাবিকভাবে ঘুমানো সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির ট্যাঙ্কেও পানি তোলা যাচ্ছে না। গরমের মধ্যে এ পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাঁকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও এর প্রভাব পড়েছে। ওয়ালিয়া গ্রামের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে পড়াশোনা করতে সমস্যা হচ্ছে। পরীক্ষার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিয়মিত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় তাঁর মতো অনেক শিক্ষার্থীই বিপাকে পড়েছে।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় শিল্পকারখানাতেও। গনি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক মো. গনি বলেন, তাঁর কারখানায় কাজের চাপ রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় যন্ত্রপাতি চালানো যাচ্ছে না। এতে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশ বসে কাটাতে হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিতেও একই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেচ ও অন্যান্য কৃষিকাজেও বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতির প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর লালপুর জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিম বলেন, চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে লালপুর জোনের নয়টি ফিডারে পরিস্থিতি সামাল দিতে কখনও এক ঘণ্টা, আবার কখনও দেড় ঘণ্টা করে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি অব্যাহত থাকায় লালপুরের মানুষের দুর্ভোগও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তীব্র গরমের সময়ে বিদ্যুতের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে জনজীবন, কর্মসংস্থান, ব্যবসা ও শিক্ষায় এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
মন্তব্য