খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৩৫ পিএম
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চরাঞ্চলে খাসজমিতে গবাদিপশু চরানো কেন্দ্র করে এক চাঁদাবাজির খবর সামনে এসেছে। উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লালচর এলাকায় খাসজমিতে মহিষ চরাতে হলে প্রতিটি মহিষের বিপরীতে ২০০ টাকা করে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে স্থানীয় খামারিরা অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনার পেছনে মাঈনউদ্দিন (২৭) নামের স্থানীয় সাবেক এক ছাত্রদল নেতার সরাসরি সম্পৃক্ততার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী মহিষ পালনকারীরা।
চরাঞ্চলের চারণভূমি ও খাসজমির প্রাকৃতিক ঘাসের ওপর নির্ভর করেই লালচর এলাকার অনেক পরিবার যুগ যুগ ধরে গবাদিপশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে সম্প্রতি এই স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চাঁদা দাবি। খামারিদের মতে, চরে মহিষ চরাতে গেলে মাঈনউদ্দিন ও তাঁর লোকজন মহিষপ্রতি ২০০ টাকা ধার্য করে দেন। এই নির্দিষ্ট অংকের টাকা পরিশোধ না করলে চরে গবাদিপশু ঢুকতে বা চরাতে নানাভাবে চরম বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই খামারিরা টাকা তুলে দিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী স্থানীয় মহিষ পালনকারী রেজাউল খা নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন, বংশপরম্পরায় তাঁরা লালচরের খাসজমিতে মহিষ চরিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তবে সম্প্রতি সাবেক এই ছাত্রদল নেতা হঠাৎ করে এসে মহিষপ্রতি ২০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, টাকা না দিলে চরে কোনো মহিষ চরাতে দেওয়া হবে না। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে চারণভূমি রক্ষায় খামারিরা টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হন। ইতোমধ্যেই চরের প্রায় ৪৭৮টি মহিষের বিপরীতে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক খামারি ইদ্রিস দালাল চরাঞ্চলের গবাদিপশু পালনের পেছনের অর্থনৈতিক সংকটের কথা তুলে ধরে জানান, পুরো চরাঞ্চলের প্রান্তিক মানুষ খাসজমির প্রাকৃতিক ঘাসের ওপর ভরসা করে কোনোমতে মহিষ পালন করে সংসার চালান। গবাদিপশু চরাতেই যদি এভাবে অতিরিক্ত টাকা ঢালতে হয়, তবে খামারিদের উৎপাদন খরচ একলাফে অনেক বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ব্যয়ের ধাক্কায় খামারিদের পক্ষে দিনশেষে লাভবান হওয়া দূরে থাক, লোকসান সামলানোই কঠিন হয়ে পড়ছে।
তোলা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাঈনউদ্দিন সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে মুঠোফোনে জানান, তিনি বর্তমানে রোগী দেখতে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। বক্তব্যে প্রয়োজন হলে সাংবাদিকদের সরাসরি হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে তথ্য-প্রমাণ পেলে তবেই সংবাদ প্রকাশের কথা বলেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনা সম্পর্কে জানান, লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হবে এবং ঘটনায় সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য