খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই আগস্ট ২০২৬, ৩:২৮ পিএম
“মায়ের মতো আপন কেহ নাই রে—”
বাংলা গানের ভুবনে মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও আবেগে ভরা এই গানটি শুনলেই যে কণ্ঠটি আজও হৃদয়ে অনুরণিত হয়, তিনি শিল্পী রুমানা ইসলাম।
রুমানা ইসলাম শুধু একজন গুণী শিল্পী নন, তিনি বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের উত্তরসূরি। তাঁর পিতা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সংগীতজগতের প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব খান আতাউর রহমান এবং মাতা পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান। অর্থাৎ জন্মসূত্রেই তিনি পেয়েছেন সুর, সংস্কৃতি ও শিল্পের এক অনন্য উত্তরাধিকার।
শিশুশিল্পী হিসেবে ১৯৭০ সালে ‘আপন পর’ চলচ্চিত্রে ‘বেবি শ্রাবণী’ নামে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর শিল্পীজীবনের সূচনা। তবে সংগীতের সঙ্গে তাঁর গভীর পথচলা শুরু হয় আরও শৈশবেই।
তাঁর কণ্ঠে গাওয়া ‘মায়ের মতো আপন কেহ নাই রে’ গানটি আজও বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে এক আবেগময় স্মৃতি। একই সঙ্গে তাঁর কণ্ঠে গাওয়া ‘মন মাঝি তোর বৈঠা নেরে, আমি আর বাইতে পারলাম না’ গানটিও বিশেষভাবে স্মরণীয়। দুটি গানই ছিল তাঁর পিতা খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘দিন যায় কথা থাকে’ চলচ্চিত্রের। গান দুটির কথা ও সুরও তাঁরই। চলচ্চিত্রটির প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
শৈশবের সেই মায়াময় কণ্ঠ ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে একজন পরিণত ও স্বতন্ত্র শিল্পীর কণ্ঠে। চলচ্চিত্রের গান, আধুনিক গান—বিভিন্ন ধারায় রুমানা ইসলাম নিজের গায়কী ও স্বকীয়তায় জায়গা করে নিয়েছেন। দেশের প্রথিতযশা গীতিকার ও সুরকারদের সৃষ্টিতে কণ্ঠ দিয়ে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা গানের ভাণ্ডার। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রবাসের মাটিতেও পেয়েছেন শ্রোতাদের ভালোবাসা ও প্রশংসা।
শিল্পী হিসেবে তাঁর বহুমাত্রিক পথচলার আরেকটি দিক হলো সংগীতবিষয়ক অনুষ্ঠান ও প্রতিভা অন্বেষণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা। বাংলাদেশ টেলিভিশনের সংগীতানুষ্ঠানে তিনি বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনেও তাঁকে নিয়মিত দেখা যায় নিজের পাশাপাশি বাংলা গানের সোনালি দিনের জনপ্রিয় শিল্পীদের কালজয়ী গান পরিবেশন করতে। প্রকাশিত হয়েছে তাঁর বেশ কয়েকটি গানের অ্যালবাম।
গানের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। ঐতিহ্যবাহী মানিকগঞ্জে তাঁদের আদি পিতৃনিবাস। পড়াশোনা করেছেন হলি ক্রস কলেজ ও বুয়েটে।
আজ ১২ আগস্ট, প্রিয় শিল্পী রুমানা ইসলামের জন্মদিন।
শৈশবের সেই কণ্ঠে যখন তিনি গেয়েছিলেন—
“মায়ের মতো আপন কেহ নাই রে”,
তখন হয়তো কেউ ভাবেনি, সেই ছোট্ট কণ্ঠ একদিন বাংলা গানের স্মৃতিতে এমন গভীরভাবে জায়গা করে নেবে।
সময় পেরিয়েছে, কণ্ঠে এসেছে পরিণতি; কিন্তু সেই মায়া আজও অমলিন।
শুভ জন্মদিন, প্রিয় শিল্পী রুমানা ইসলাম।
আপনার কণ্ঠে বাংলা গানের সোনালি স্মৃতিগুলো আরও বহুদিন বেঁচে থাকুক। জীবনের আগামী দিনগুলো হোক আরও সুন্দর, আরও আনন্দময় ও আরও দীপ্তিমান।
আপনার জন্য রইল জন্মদিনের অন্তহীন শুভেচ্ছা, ভালোবাসা ও আন্তরিক শুভকামনা।
শুভ জন্মদিন।
সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, গান দিয়ে আলোকিত করে যান আমাদের হৃদয়ের আকাশ।
মন্তব্য