ব্রাজিলীয় ফুটবল কিংবদন্তি পেলের স্মৃতিকাতরতার সঙ্গে বাংলাদেশের নাম ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বেশ পুরোনো। জীবনসায়াহ্নে এসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব নিউইয়র্ক কসমসের হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছিলেন এই সর্বকালের সেরা মহাতারকা। সেই ঐতিহাসিক ক্লাবটিই এবার বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের কাছে এক নতুন রূপ নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে। বাংলাদেশের জাতীয় দলের তারকা মিডফিল্ডার শমিত সোম নাকি যোগ দিতে যাচ্ছেন ঐতিহাসিক এই ক্লাবটিতে।
কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের সফল ক্লাব ক্যাভালরি এফসিতে টানা তিন মৌসুম কাটানোর পর চলতি বছর দল ছাড়েন শমিত। ক্যাভালরির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, পরবর্তী মৌসুমের পরিকল্পনায় এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার আর থাকছেন না। ক্লাবহীন থাকা শমিতের পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে তৈরি হয়েছে তুমুল জল্পনা। বিভিন্ন সূত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল পিরামিডের তৃতীয় স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিউইয়র্ক কসমসের সঙ্গেই চুক্তিবদ্ধ হতে চলেছেন। তবে শমিত বা ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসে নিউইয়র্ক কসমস কেবল একটি ক্লাব নয়, বরং এক বর্ণিল অধ্যায়। গত শতকের সত্তরের দশকে বিশ্ব ফুটবলের দুই উজ্জ্বলতম নক্ষত্র—ব্রাজিলের পেলে এবং পশ্চিম জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার—এই ক্লাবের সবুজ জার্সিতে একসঙ্গে খেলেছেন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত পেলের উপস্থিতি ক্লাবটিকে রাতারাতি বিশ্বমঞ্চে বিখ্যাত করে তোলে। একই সময়ে বেকেনবাওয়ারের আগমন কসমসকে সে যুগের অন্যতম জনপ্রিয় ক্লাবে রূপ দিয়েছিল।
শমিত সোমের নিজস্ব আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের গতিপথও বেশ নজরকাড়া। কানাডায় বেড়ে ওঠা এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার শুরুতেই দেশটির জাতীয় দলের হয়ে দুটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন। তবে শেকড়ের টানে ও লাল-সবুজ জার্সি গায়ে চড়ানোর স্বপ্নে গত বছর তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।
বাফুফের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের জুনে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় দলে শমিতের অভিষেক ঘটে। অভিষেক ম্যাচের পর থেকেই মাঝমাঠে তাঁর পারফরম্যান্স সবার নজর কাড়ে। জাতীয় দলে অভিষেকের চার মাসের মাথায় হংকংয়ের বিপক্ষে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি পান তিনি। ম্যাচটিতে বাংলাদেশ ৪-৩ ব্যবধানে হারলেও শমিতের একক নৈপুণ্য প্রশংসিত হয়। সব মিলিয়ে, ঐতিহ্যবাহী নিউইয়র্ক কসমসে তাঁর সম্ভাব্য যোগদান বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।
মন্তব্য