খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই আগস্ট ২০২৬, ৩:২৮ পিএম
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সাবিকুন্নাহার মিম (২৮) নামে এক নারীকে আটক করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। আহত তার স্বামী জহিরুল ইসলাম (৩২) বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সানারপাড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় জহিরুলকে উদ্ধার করে প্রথমে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জহিরুল ইসলাম ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানার জামশেদ মোল্লার ছেলে। তার স্ত্রী সাবিকুন্নাহার মিম একই এলাকার মৃত মোস্তফা কামালের মেয়ে। তারা নারায়ণগঞ্জের দক্ষিণ সানারপাড় এলাকায় শাহ আলম মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় জহিরুল বাসায় ফেরার পর তার সঙ্গে মিমের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। মিমের অভিযোগ, জহিরুল তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে একপর্যায়ে মিম ধারালো অস্ত্র দিয়ে জহিরুলের গোপনাঙ্গে আঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আঘাত পাওয়ার পর জহিরুলের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল, যা ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল নামেও পরিচিত, সেখানে নিয়ে যান। পরে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত মিম পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, জহিরুলের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য বিরোধ চলছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাদের মৌখিকভাবে তালাক হয়। তবে ওই বিচ্ছেদের পরও জহিরুল তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং নিয়মিত তার কাছে আসা-যাওয়া করতেন।
মিম আরও দাবি করেন, প্রায় তিন মাস আগে জহিরুল অন্য এক নারীকে বিয়ে করেন। এরপরও তিনি মিমের কাছে আসতেন। তার অভিযোগ, জহিরুল তাকে নিয়মিত ভরণপোষণ দিতেন না; বরং বেতন পাওয়ার পর বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে টাকা নিতেন। দাম্পত্য সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল বলেও তিনি দাবি করেছেন।
মিমের অভিযোগ, জহিরুল একাধিকবার তার সম্মতি ছাড়া শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছেন। ঘটনার দিনও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন বলে জানান।
তবে মিমের এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ, তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা এবং ওই সময় ঠিক কী ঘটেছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে সাবিকুন্নাহার মিমকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আবদুল আল মামুন জানান, অভিযুক্ত নারীকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে এবং আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আহত ব্যক্তির চিকিৎসার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ, কথিত বিচ্ছেদ, ঘটনার আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কী নিয়ে বিরোধ হয়েছিল এবং আঘাতের প্রকৃত পরিস্থিতি—সবকিছু তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত হলেও এর সঙ্গে শারীরিক নিরাপত্তা ও সম্মতির মতো গুরুতর বিষয় জড়িত। তাই উভয় পক্ষের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ যাচাই করেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র বের করা জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্তব্য