খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই আগস্ট ২০২৬, ৩:১৬ পিএম
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় চোর সন্দেহে দুই যুবককে ধরে নিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লাল বাদশা (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই স্থান থেকে মাইদুল (১৮) নামে আরেক যুবককে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকায়। নিহত লাল বাদশা আলমপুর ইউনিয়নের আলমপুর আদর্শ গ্রামের জামালের ছেলে। আহত মাইদুল একই এলাকার ইব্রাহিমের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা পরস্পরের বন্ধু।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকায় দুই যুবককে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাল বাদশাকে মৃত অবস্থায় এবং মাইদুলকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। মাইদুলকে দ্রুত ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
জীবিত উদ্ধার হওয়া মাইদুল পুলিশকে জানিয়েছেন, জামালগঞ্জ চারমাথা এলাকার একটি তেলের পাম্পের কাছ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ডেকে নিয়ে যান। পরে তাদের একটি বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের ওপর মারধর ও নির্যাতন চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। একপর্যায়ে দুই যুবককে মাঠের পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। মাইদুল পুলিশকে আরও জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সামনে আনা হলে তিনি তাদের শনাক্ত করতে পারবেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, লাল বাদশা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং তার দৃষ্টিশক্তিও দুর্বল ছিল। অন্যদিকে, মাইদুলের পরিবারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তার কিছুটা জ্ঞান ও বুদ্ধিগত সমস্যা রয়েছে। এমন অবস্থায় তাদের কী কারণে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং কেন তাদের ওপর হামলা চালানো হয়, তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চোর সন্দেহে দুই যুবককে ধরে নিয়ে মারধর ও নির্যাতন করা হয়ে থাকতে পারে। পরে তাদের মাঠের পাশে ফেলে রাখা হয়। সেখানেই লাল বাদশার মৃত্যু হয় এবং মাইদুল অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তবে চূড়ান্তভাবে ঘটনার কারণ, হামলার ধরন এবং এতে কারা জড়িত ছিলেন—এসব এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুক্তারুল আলম জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে মৃত এবং অপরজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে চোর সন্দেহে মারধরের বিষয়টি সামনে এসেছে। মাইদুলের দেওয়া তথ্য, স্থানীয়দের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে লাল বাদশার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
চোর সন্দেহে কাউকে আটক করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা গুরুতর অপরাধে পরিণত হতে পারে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ থাকলে তাকে মারধর বা নির্যাতন না করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করাই আইনসম্মত পদ্ধতি। ক্ষেতলালের এই ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মন্তব্য