খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৩৪ পিএম
দেশে হাম পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৭৯৮ শিশুর সন্ধান পাওয়া গেছে। একই সময়ে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গজনিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০২। এর মধ্যে ৮০৩টি মৃত্যু হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুদের, আর নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯৯ শিশু। অর্থাৎ সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত—দুই ধরনের হিসাব মিলিয়ে পাঁচ মাসে মৃত্যুর সংখ্যা নয় শতাধিক হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাব বলছে, নতুন করে ৭০ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৭২৮ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে একদিনে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৯৮।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৭০০ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ৫৪৯ শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। এতে বোঝা যায়, একদিকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিশু চিকিৎসার আওতায় আসছে, অন্যদিকে অনেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরছে। তবে নতুন রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির ধারাবাহিকতা পরিস্থিতির ওপর চাপ বজায় রাখছে।
১৫ মার্চ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৭৬। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৮০০।
এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৯৪ রোগী। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৯ জন। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক রোগীকে হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা দিতে হয়েছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণ থেকে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু সংক্রমণের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সুরক্ষা পায়নি, তাদের ঝুঁকি বেশি।
সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া হামের পরিচিত লক্ষণ। কিছু ক্ষেত্রে রোগটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে এবং নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা কিংবা অন্যান্য গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। শিশু অসুস্থ হলে তাই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ধারাবাহিক পরিসংখ্যানে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকা পরিস্থিতির গুরুতর দিকটি সামনে আনছে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাঁচ মাসের হিসাবে মোট মৃত্যু ৯০২-এ পৌঁছানোয় শিশুদের দ্রুত শনাক্তকরণ, পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
হাম মোকাবিলায় সংক্রমিত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করা যেমন জরুরি, তেমনি আক্রান্তদের অন্য শিশুদের কাছ থেকে আলাদা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকা এবং শিশুর জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলানোর পাশাপাশি সংক্রমণের উৎস শনাক্ত, আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিদিনের পরিসংখ্যানও দেখাচ্ছে, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী শনাক্তের প্রবাহ এখনও পুরোপুরি থামেনি।
| সূচক | ১৫ মার্চ–১৫ আগস্ট |
|---|---|
| সন্দেহজনক হাম রোগী | ১,৪১,৭৭৬ |
| নিশ্চিত হাম রোগী | ১৭,৮০০ |
| হাসপাতালে ভর্তি রোগী | ১,২৩,৪৯৪ |
| হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া রোগী | ১,১৯,০৮৯ |
| হাম ও উপসর্গজনিত মোট মৃত্যু | ৯০২ |
| হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু | ৮০৩ |
| নিশ্চিত হাম আক্রান্তের মৃত্যু | ৯৯ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন মোট আক্রান্ত | ৭৯৮ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত | ৭০ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গযুক্ত রোগী | ৭২৮ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি | ৭০০ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পাওয়া রোগী | ৫৪৯ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু | ৮ |
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, দেশে হাম পরিস্থিতি এখনও স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। প্রতিদিন নতুন করে শিশু আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় রোগ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য