খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
আজ ১৫ আগস্ট। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের নিজ বাসভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি একটি গভীর শোকাবহ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়েছে। দিনটিকে ঘিরে সরকারি ও দলীয় পর্যায়ে শোক র্যালি, মিলাদ মাহফিল, দোয়া, প্রার্থনা, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হতো। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও নিজেদের উদ্যোগে স্মরণ অনুষ্ঠান করত। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এর পর থেকে ১৫ আগস্ট আগের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে না।
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেছেন শোবিজ অঙ্গনের কয়েকজন পরিচিত মুখ। তাঁদের কেউ সরাসরি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, আবার কেউ ইতিহাস, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং হত্যাকাণ্ডের নৈতিকতার বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
অভিনেত্রী জয়া আহসান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্যের পাশে তোলা নিজের ছবি প্রকাশ করে ১৫ আগস্টের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁর প্রকাশিত বার্তায় বঙ্গবন্ধুকে শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার কথা উঠে আসে।
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন অবশ্য বিষয়টি নিয়ে তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন। নিজের বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন ব্যাখ্যা, রাজনৈতিক বয়ান এবং সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি আরও স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেছেন যে ইতিহাস কখনো কখনো রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ক্ষমতার পরিবর্তনের কারণে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হতে পারে। এ কারণে কোনো একটি বয়ানের ওপর নির্ভর করে ইতিহাস সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে তিনি আগ্রহী নন।
তবে ইতিহাসের ব্যাখ্যা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের নির্মমতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন বাঁধন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সেদিন তাঁর পরিবারের যেসব সদস্য নিহত হয়েছিলেন, তাঁদের হত্যাকেও তিনি অন্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ইতিহাসের ভিন্ন পাঠ কোনো মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া কিংবা সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার কারণ হতে পারে না।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রাথমিক রাজনৈতিক ভূমিকা ও অবদানের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বাঁধন। একই সঙ্গে তিনি ইতিহাসকে সত্য, প্রেক্ষাপট এবং সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে দেখার সুযোগ থাকা প্রয়োজন বলে মত দেন।
অভিনেতা আরশ খান বঙ্গবন্ধুর একটি ছবি প্রকাশ করে আবেগঘন মন্তব্য করেন। তাঁর বার্তায় বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি কামনা করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশও ছিল।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় সক্রিয়ভাবে আলোচনায় থাকা অভিনেত্রী নাজিয়া হক অর্ষাও বঙ্গবন্ধুর ছবি প্রকাশ করেন। ছবির সঙ্গে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, মিলন ভট্টাচার্য, নাজিফা তুষি, মাহিয়া মাহি, অরুণা বিশ্বাস, তুষ্টি, তানভীন সুইটি ও দোয়েলসহ শোবিজ অঙ্গনের আরও কয়েকজন শিল্পী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে নিজেদের শোক ও শ্রদ্ধার কথা জানিয়েছেন। কণ্ঠশিল্পী কোনাল ও পান্থ কানাইও বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেছেন।
নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম, দীপঙ্কর দীপন এবং মেজবাউর রহমান সুমনসহ বিনোদন অঙ্গনের আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিনটি ঘিরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
১৫ আগস্টকে ঘিরে তারকাদের এসব বক্তব্যে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যেমন সামনে এসেছে, তেমনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবও প্রতিফলিত হয়েছে। কারও প্রকাশিত বার্তায় ছিল সরাসরি শ্রদ্ধা ও শোক, আবার কারও বক্তব্যে ইতিহাসের বহুমাত্রিক পাঠ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে এসব প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনা এখনো বাংলাদেশের জনপরিসর ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীরভাবে আলোচিত একটি বিষয়।
মন্তব্য