খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই আগস্ট ২০২৬, ১০:২১ পিএম
চীন সরকারের অফশোর বা দেশের বাইরের বিনিয়োগ আয়ের ওপর কর সংক্রান্ত বিদ্যমান নিয়মের কড়াকড়ি এবং গ্রাহকদের বাড়তি সতর্কতার কারণে হংকংয়ের ব্যাংক ও বীমা খাত সাময়িক মন্দার মুখোমুখি হতে পারে। আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা এসএন্ডপি গ্লোবাল রেটিংসের এক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, মূল ভূখণ্ডের (মেইনল্যান্ড) চীনারা হংকংয়ের বিভিন্ন আর্থিক পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ট্যাক্স বা করের বিষয়টি নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু করায় বিক্রয়ে এই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
‘চায়না’স অফশোর ট্যাক্স: কোর ডিমান্ড কুশনস হংকং ব্যাংকস অ্যান্ড ইন্স্যুরার্স’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতা বোঝার কারণে চীনের মূল ভূখণ্ডের গ্রাহকরা সাময়িকভাবে দেশের বাইরে বিনিয়োগ করা কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে হংকংয়ের জীবন বীমা ও ব্যাংকিং খাতের পণ্যের বিক্রয়ে স্বল্পমেয়াদে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
তবে এই মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই ধারণা করছে এসএন্ডপি গ্লোবাল রেটিং। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাজারে হংকংয়ের দীর্ঘদিনের সুনাম, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং সুরক্ষার কারণে স্থানীয় আর্থিক খাতের মৌলিক চাহিদা আগের মতোই শক্তিশালী থাকবে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, মেইনল্যান্ড গ্রাহকদের টানা চাহিদার ওপর ভর করে আগামী দুই বছর হংকংয়ের জীবন বীমা খাত বার্ষিক ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হবে।
অন্যদিক, চীনের মূল ভূখণ্ডের আমানতকারীদের এই সতর্ক অবস্থানের ফলে হংকংয়ের ব্যাংকগুলোর ফি-ভিত্তিক আয় সাময়িকভাবে কিছুটা কমতে পারে। তবে হংকংয়ের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বেশ সক্ষম। তাদের রয়েছে বহুমুখী সম্পদ ব্যবস্থাপনা সুবিধা (ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্ম) এবং কৌশলগত পণ্য পরিবর্তনের দারুণ সুযোগ, যা সম্ভাব্য ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মূল ভূমিকা পালন করবে।
সংস্থাটির বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে, অফশোর কর ব্যবস্থার খবর ছড়ানোর ফলে সাময়িকভাবে হংকং থেকে ব্যাংকিং ও বীমা পণ্য কেনার গতি ধীর হলেও, হংকংয়ের আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে অবস্থান বা মূল চাহিদায় দীর্ঘমেয়াদে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকেরা করনীতির জটিলতা কাটিয়ে উঠে আবারও নিয়মিত বিনিয়োগে ফিরবেন বলে আশা করছেন আর্থিক বিশ্লেষকেরা।
মন্তব্য