খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই আগস্ট ২০২৬, ১০:১১ পিএম
গাজীপুরের কালীগঞ্জে গভীর রাতে ব্যবসায়ী মঞ্জুর মিয়ার বসতবাড়িতে প্রবেশ করে একদল দুর্বৃত্ত নৃশংস তাণ্ডব চালিয়েছে। ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাড়িতে ঢোকা সশস্ত্র চক্রটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গৃহবধূ কামরুন নাহারকে (৩৫) হত্যা করেছে। এ ঘটনায় গৃহকর্তা রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুর মিয়া (৪১) ও তাঁর ১৬ বছর বয়সী মেয়ে সানজিদা আক্তার মিম গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোররাত তিনটার দিকে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের নগরভেলা গায়েনবাড়ি এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সুযোগ নিয়ে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দুর্বৃত্ত দল মুখে গামছা পেঁচিয়ে ও হাফপ্যান্ট পরা অবস্থায় এলাকায় প্রবেশ করে। হামলাকারীরা প্রথমে আশপাশের অন্যান্য বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের হতে না দেওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখায়। পরে তারা মঞ্জুর মিয়ার টয়লেটের ভেন্টিলেটর ভেঙে ঘরে ঢোকে।
ভেতরে ঢুকেই দুর্বৃত্তরা চাপাতি ও ধারালো ছুরি দিয়ে পরিবারের সদস্যদের কোপাতে শুরু করে। চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসতে চাইলে হামলাকারীরা গুলি করার হুমকি দেয় এবং ইট-পাটকেল ছুঁড়ে আতঙ্ক তৈরি করে। একপর্যায়ে প্রতিবেশীদের আনাগোনা বাড়তে থাকলে তারা তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূ কামরুন নাহার মারা যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ব্যবসায়ী মঞ্জুর মিয়াকে ঢাকার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁর আহত মেয়েকেও চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
নিহতের চাচা নাছির ব্যাপারী (৭০) জানান, চিৎকার শুনে বাইরে বের হলে এক দুর্বৃত্ত তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ঘরে ফিরে যেতে বলে এবং ইট ছুঁড়ে মারে, যা তাঁর পায়ে আঘাত হানে। নিহত ব্যবসায়ীর ভাই মোহন মিয়া জানান, একটি জমির প্লট কেনার জন্য সমিতি থেকে ২০ লাখ টাকা তোলার কথা ছিল। ডাকাতদল সেই অর্থের খবর পেয়েই হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করছেন তাঁরা।
কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ও কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ডাকাতি নাকি পূর্বশত্রুতা—তা নিশ্চিত হতে পিবিআই, সিআইডি ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে একাধিক দল।
মন্তব্য