খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৪ পিএম
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তরুণী নাট্যাভিনেত্রী ও মডেল রিধিকা রিধির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ছয়টার দিকে নিজ বাসার সিলিং ফ্যানে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “আমরা হাসপাতাল থেকে সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে গিয়ে মরদেহ সুরতহাল করি। অভিনেত্রীর মা এবং স্বজনেরা এখন থানায় উপস্থিত আছেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রিধির এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শনিবার ভোররাতের দিকে সেই ব্যক্তির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় তাঁদের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরিবারের দাবি, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ভিডিও কল চালু থাকা অবস্থাতেই রিধি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।”
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও তদন্তকারীদের ধারণা, এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা। এ বিষয়ে ভাটারা থানায় স্বজনদের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে ভিডিও কলে থাকা সেই যুবক কে ছিলেন কিংবা তাঁর কোনো প্ররোচনা ছিল কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
উদীয়মান মডেল হিসেবে গ্ল্যামার জগতে যাত্রা শুরু করেছিলেন রিধিকা রিধি। ফ্যাশন হাউস ও বিজ্ঞাপনচিত্রে নজর কাড়ার পর ছোট পর্দায় নাম লেখান তিনি। খুব অল্প সময়েই অভিনয় দক্ষতা দিয়ে একক ও ধারাবাহিক নাটকে নিজের অবস্থান তৈরি করে নেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’ এবং ‘সুন্দরী’। একের পর এক দর্শকনন্দিত নাটকে কাজ করে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছিলেন এই সম্ভাবনাময়ী শিল্পী।
স্বাভাবিক ও সম্ভাবনাময় একটি ক্যারিয়ারের মাঝে হুট করে এমন মর্মান্তিক চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না তাঁর সহকর্মী ও অনুরাগীরা। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যার পেছনে অন্য কোনো রহস্য কিংবা অপরাধ লুকিয়ে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অভিনেত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ আরও পরিষ্কার হবে।
মন্তব্য