খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই আগস্ট ২০২৬, ১২:১০ এএম
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদক কারবারিদের দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে পিস্তল ও গুলিসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করে। শনিবার বেলা তিনটার দিকে ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক দুজন হলেন ইসদাইর এলাকার রাজ্জাকের ছেলে জসিম (২৪) এবং একই এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে মোহন (২৩)। সংঘর্ষের সময় জসিমের পায়ে গুলি লাগে। তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে একটি লোডেড (গুলি ভর্তি) পিস্তল জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সংঘর্ষ সামলাতে ও আসামিদের ধরতে গিয়ে আহত হন ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিক, এসআই বন্ধন চন্দ্র সরকার এবং কনস্টেবল রাশেদুল। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, মাদক কারবারিদের ছোড়া ইট-পাটকেলের আঘাত এবং দ্রুত দৌড়াদৌড়ির সময় পুলিশ সদস্যরা চোট পান। তাঁদের একই হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক অপু কুমার সাহা জানান, বেলা পৌনে চারটার দিকে জসিমকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাঁর পায়ে দুটি জখমের দাগ দেখা গেছে, যা গুলির আঘাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভেতরে গুলি আটকে আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে এক্স-রে পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ইসদাইর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক মাদক চক্রের মধ্যে বিরোধ চলছে। শনিবার বিকালে এক পক্ষ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেললাইনের কাছে অবস্থান নিলে উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি দল সেখানে পৌঁছায়। পুলিশকে দেখা মাত্রই মাদক কারবারিরা অতর্কিত ইট-পাটকেল ছড়াতে শুরু করে এবং গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও পাল্টা গুলি ছাড়ে। একপর্যায়ে ধাওয়া দিয়ে পুলিশ জসিম ও মোহনকে ধরে ফেলে।
এলাকাবাসীর বরাতে পুলিশ আরও জানায়, ইসদাইর এলাকার মাদক ব্যবসা ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করে রাজ্জাক এবং তার দুই ছেলে জসিম ও ওয়াসিম। গত এপ্রিলে বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ৫৩ রাউন্ড গুলিসহ রাজ্জাক ও তার ছোট ছেলে ওয়াসিম (২২) গ্রেপ্তার হন। তার কিছুদিন আগে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ জসিমকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়ে তাঁরা আবারও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালান। স্থানীয় মাদক বিক্রেতা শাকিলের দলের সঙ্গে তাঁদের নতুন করে শত্রুতা তৈরি হয়। এরই জেরে গত ৭ আগস্টও দুই পক্ষের মধ্যে এক দফা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানিয়েছেন, পুলিশের ওপর হামলার পেছনে যাদের হাত রয়েছে, তাদের সবাইকে শনাক্ত করা হচ্ছে। ইসদাইর সংলগ্ন পুরো এলাকায় মাদক ও অস্ত্র কারবারিদের নির্মূলে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
মন্তব্য