খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই আগস্ট ২০২৬, ১০:০ পিএম
সঙ্গীতের বিশাল সাম্রাজ্যে অনেক তারকার জন্ম হয়েছে, আবার কালের নিয়মে হারিয়েও গেছে। কিন্তু কিছু নাম থাকে যা যুগের গণ্ডি পেরিয়ে এক চিরন্তন প্রতীকে পরিণত হয়। ১৯৭৭ সালের ১৬ আগস্ট মাত্র ৪২ বছর বয়সে মারা গিয়েছিলেন মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী এলভিস প্রিসলি। মৃত্যুর ৪৯ বছর পার হলেও সঙ্গীত জগতে তাঁর নামের আগে অন্য কোনো পরিচয় বসানোর প্রয়োজন পড়ে না—স্রেফ ‘এলভিস’ বললেই বিশ্ব চিনে নেয় ‘দ্য কিং অফ রক অ্যান্ড রোল’-কে।
এলভিস কেবল একটি ধারার সফল গায়ক ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন এক সাংস্কৃতিক বিপ্লবের স্থপতি। ১৯৫৪ সালে মিসিসিপির টুপেলো থেকে আসা সাধারণ এক তরুণ তাঁর কণ্ঠ, শরীরী ভাষা ও অভূতপূর্ব ফ্যাশন দিয়ে পপ সংস্কৃতির পুরো গতিপথটাই বদলে দিয়েছিলেন। ব্লুজ, কান্ট্রি, আরঅ্যান্ডবি ও গসপেল সংগীতিকে একত্র করে তিনি যে উন্মাদনার জন্ম দেন, তা আমেরিকার গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। ‘হাউন্ড ডগ’, ‘জেলহাউস রক’, কিংবা ‘কান্ট হেল্প ফলিং ইন লাভ’-এর মতো গানগুলো দিয়ে তিনি দেখিয়েছিলেন কীভাবে শব্দ ও শরীরী প্রকাশ একসূত্রে বাঁধতে হয়।
তবে এলভিসের ঐতিহাসিক সফলতার পেছনে রয়েছে তীব্র বিতর্কও। ১৯৫০-এর দশকে বর্ণবৈষম্যে বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পীদের তৈরি ব্লুজ ও আরঅ্যান্ডবি সুরকে মূলধারার শ্বেতাঙ্গ শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় করার জন্য তাঁকে ‘সাংস্কৃতিক আত্মসাৎকারী’ বা কৃষ্ণাঙ্গদের গান চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। যদিও আর্থার ক্রুডাপ বা বি বি কিংয়ের মতো কৃষ্ণাঙ্গ কিংবদন্তিদের প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা ও প্রকাশ্য স্বীকৃতি ইতিহাসের অংশ। এ বিতর্ক সত্ত্বেও স্বীকার করতেই হয়, টেলিভিশন ও আধুনিক মিউজিক ভিডিওর যুগে একজন গায়ক যে দৃশ্যমান আকর্ষণ হতে পারেন—তার প্রথম পথপ্রদর্শক ছিলেন এলভিসই।
অভিনয় জগতেও এলভিসের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। হলিউডে তাঁর ৩১টি ফিচার চলচ্চিত্র বাণিজ্যিক সাফল্য পেলেও অনেকেই মনে করেন তাঁর আসল প্রতিভা ফর্মুলাভিত্তিক সিনেমায় আটকে ছিল। ১৯৬৮ সালের বিখ্যাত ‘৬৮ কামব্যাক কনসার্ট’ এবং পরবর্তীতে ‘আলোহা ফ্রম হাওয়াই’ (১৯৭৩)-এর মতো ঐতিহাসিক স্যাটেলাইট সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে তিনি নিজেকে বারবার নতুন করে আবিষ্কার করেন।
ম্যানেজার কর্নেল টম পার্কারের কঠোর ব্যবসায়িক কৌশল, মাত্রাতিরিক্ত প্রেসক্রিপশন ওষুধের ওপর নির্ভরতা এবং চরম মানসিক চাপ শেষ বয়সে এই রাজাকে গ্রাস করলেও তাঁর সৃষ্ট সাম্রাজ্য এখনো অক্ষুণ্ণ। আজ ২০২৬ সালেও মেমফিসের গ্রেসল্যান্ডে প্রতিবছর হাজার হাজার ভক্ত ও অনুকরণকারী শিল্পী জমা হন তাঁর উত্তরাধিকার উদ্যাপন করতে। বিশ্বজুড়ে এক বিলিয়নেরও বেশি রেকর্ড বিক্রি হওয়া এই শিল্পী প্রমাণ করেছেন—রাজারা চলে যান, কিন্তু তাঁদের রাজত্ব কখনো শেষ হয় না।
মন্তব্য