খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই আগস্ট ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বহুল আলোচিত এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডকে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনে আমদানি ঋণপত্র বা এলসি (Letter of Credit) খোলার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবস্থিত কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির অনুকূলে প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে জারি করা পৃথক দুটি নির্দেশনায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, রূপালী ব্যাংক চাইলে ১০০ শতাংশ নগদ জমা বা মার্জিন গ্রহণের সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানটির নামে আমদানি এলসি নিষ্পত্তি করতে পারবে। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭(কক)(৩) ধারার বিধিনিষেধ এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
তবে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্তও জুড়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই ধরনের ঋণ সুবিধা প্রদানের কারণে ভবিষ্যতে যদি কোনো ধরনের আর্থিক জটিলতা দেখা দেয়, তবে তার দায় বাংলাদেশ ব্যাংক নেবে না। রূপালী ব্যাংককে সম্পূর্ণ নিজ ঝুঁকিতে এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে হবে এবং পরবর্তীতে এই সুবিধার বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কোনো প্রকার আর্থিক সহায়তা বা ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে না।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারায় অবস্থিত এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেড মূলত বেসরকারি খাতে নির্মিত দেশের অন্যতম বৃহৎ কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রায় ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি, ব্যয়ে নির্মিত হয় এই বিশাল মেগাপ্রকল্পটি। কেন্দ্রটিতে এস আলম গ্রুপের মূল অংশীদারিত্ব রয়েছে ৭০ শতাংশ। আর বাকি ৩০ শতাংশ শেয়ারের যৌথ মালিকানায় রয়েছে চীনের বিখ্যাত দুই প্রকৌশল কোম্পানি ‘সেপকো থ্রি’ (SEPCOIII) এবং ‘এইচটিজি’ (HTG)।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট, যা ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি পৃথক ইউনিটে বিভক্ত। প্রকল্পটির প্রথম ইউনিট থেকে ২০২২ সালের ২৪ মে সফলভাবে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হয়েছিল। পরবর্তীতে একই বছরের ২৮ জুন দ্বিতীয় ইউনিট থেকেও বাণিজ্যিকভাবে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে কর্তৃপক্ষ। সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অবকাঠামোগত কাজ শেষ করে ২০২৩ সালের ১৪ জানুয়ারি কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হয়। বর্তমানে দেশের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই এলসি খোলার অনুমতির ফলে কেন্দ্রটির কয়লা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানির জটিলতা দূর হবে এবং উৎপাদন অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য