খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৩০ এএম
রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে একটি মৃদু মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩.০ (তিন দশমিক শূন্য)।
সোমবার ভোর ৫টা ৩২ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে এই ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। ভোরের শান্ত পরিবেশে হঠাৎ এই হালকা ঝাঁকুনিতে ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের অনেক বাসিন্দার ঘুম ভেঙে যায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল বা উপকেন্দ্র (Epicenter) ছিল রাজধানী ঢাকার আগারগাঁও প্রধান কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে, যা ভৌগোলিক সীমানায় নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলায় অবস্থিত। জাতীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কম্পনটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার ভূ-গর্ভস্থ গভীরে সৃষ্টি হয়েছিল। ভূ-গর্ভের তুলনামূলক কম গভীরে উৎপত্তিস্থল হওয়ায় শিবপুর ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে হালকা কম্পনের তীব্রতা বেশি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পটির পর স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগ করা হলে কোনো ধরনের প্রাণহানি, শারীরিক আঘাত কিংবা ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞ ভূতাত্ত্বিকদের মতে, বাংলাদেশ তিনটি বৃহৎ টেকটোনিক প্লেটের (ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মিজ প্লেট) সংযোগস্থলের নিকটে অবস্থিত হওয়ায় এটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। বিশেষত ডাউকি ফল্ট ও মধুপুর ফল্টের উপস্থিতি ঢাকা এবং এর চারপাশের জেলাগুলোতে নিয়মিতই ছোট ও মাঝারি ভূ-কম্পন সৃষ্টি করে। ভূ-প্রকৃতিবিদদের অভিমত, এই ধরণের স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্প ভূ-অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে জমা হওয়া টেকটোনিক চাপ ধীরে ধীরে মুক্ত হতে সাহায্য করে। তবে একই সঙ্গে এটি জাতীয় পর্যায় এবং নগরাঞ্চলে অবকাঠামোগত প্রস্তুতি ও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো জরুরি অবস্থা তৈরি হয়নি। যেকোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে নাগরিকদের ভূ-কম্পনের সময় আতঙ্কিত না হয়ে খোলা জায়গায় অবস্থান করা এবং নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার তাগিদ দেয়া হয়েছে।
মন্তব্য