খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৩০ পিএম
ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে প্রথম টেস্টে নয় উইকেটের বড় ব্যবধানে হারের পর অস্ট্রেলিয়ার সামনে এবার নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। ম্যাচে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত ওভার বোলিং না করায় আইসিসির শাস্তির মুখেও পড়তে পারে প্যাট কামিন্সের দল। এতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট হারানোর পাশাপাশি খেলোয়াড়দের আর্থিক জরিমানার ঝুঁকিও রয়েছে।
গত রোববার ডারউইনে টেস্টের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশ নয় উইকেট হাতে রেখে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে স্মরণীয় জয় তুলে নেয়। অস্ট্রেলিয়ার ১৪৯ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এই হার তাদের অন্যতম বড় হতাশার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিং, ব্যাটিংয়ে দৃঢ়তা এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে কার্যকর পরিকল্পনা অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকেই চাপে রেখেছিল।
এর মধ্যেই সামনে এসেছে ধীরগতির ওভার রেটের বিষয়টি। ম্যাচের তৃতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়া মোট ৮৬ ওভার বোলিং করে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাদের অন্তত ৯০ ওভার করার কথা ছিল। অর্থাৎ ওই দিন চার ওভার কম বোলিং করেছে স্বাগতিক দল।
টেস্ট ক্রিকেটে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, একটি দলকে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৫ ওভার বোলিং করার লক্ষ্য পূরণ করতে হয়। পুরো দিনের হিসাব করলে তা দাঁড়ায় ৯০ ওভারে। নির্ধারিত ওভার রেট পূরণে ব্যর্থ হলে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সম্ভাব্য শাস্তির একটি অংশ হতে পারে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট কেটে নেওয়া। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির একটি নির্দিষ্ট অংশ জরিমানাও করা হতে পারে। প্রতি ঘাটতি ওভারের জন্য ম্যাচ ফির পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি টেস্টে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি ২০ হাজার ডলার ধরে হিসাব করলে চার ওভারের ঘাটতিতে একজন খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ জরিমানা দাঁড়াতে পারে ৪ হাজার ডলার। একাদশের ১১ খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে মোট অঙ্ক হতে পারে ৪৪ হাজার ডলার। তবে চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারণের আগে ম্যাচের বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনা করা হবে।
পয়েন্ট কাটার বিষয়টিও অস্ট্রেলিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় তারা শীর্ষে রয়েছে। তাদের সংগ্রহ ৮৪ পয়েন্ট এবং জয়ের হার ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চার পয়েন্ট কাটা হলে মোট পয়েন্ট কমে ৮০-তে নেমে আসবে। অবশ্য জয়ের হার একই থাকবে। কারণ জয়ের হার হিসাব করা হয় ম্যাচের ফলাফলের ভিত্তিতে, সরাসরি অর্জিত পয়েন্টের ওপর নয়।
দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তাদের পয়েন্ট ৩৬ এবং জয়ের হার ৭৫ শতাংশ। বাংলাদেশের ডারউইন টেস্টের জয় তাদের অবস্থানও শক্ত করেছে। বাংলাদেশ উঠে এসেছে তালিকার চতুর্থ স্থানে, যেখানে তাদের পয়েন্ট ৪০ এবং জয়ের হার ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
মজার বিষয় হলো, প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশও নির্ধারিত ওভার রেটের তুলনায় পিছিয়ে ছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ৫৩ ওভারে অলআউট করে দেওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে শাস্তির ঝুঁকি তৈরি হয়নি। টেস্টের ওভার রেটের নিয়মে নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে দলকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোনো দল অন্তত ৮০ ওভার ব্যাটিং না করলে অথবা পুরো ম্যাচে দুই ইনিংসে মোট ১৬০ ওভারের কম খেলা হলে কিছু ক্ষেত্রে ধীরগতির ওভার রেটের শাস্তি প্রযোজ্য হয় না।
ডারউইনের ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস গড়ায় ১৩৮ ওভার পর্যন্ত। ফলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ওই ছাড় পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে। তবে চার ওভার ঘাটতির জন্য শেষ পর্যন্ত ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা ম্যাচ রেফারির মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে। প্রচণ্ড গরম আবহাওয়া, উইকেটের অবস্থা, ইনজুরি, উইকেট পতনের সংখ্যা এবং অন্যান্য যৌক্তিক কারণও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিষয়টি নতুন নয়। ২০২০ সালের বক্সিং ডে টেস্টে ধীরগতির ওভার রেটের কারণে তাদের চারটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট কাটা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব পরবর্তী সময়ে দলটির ওপর পড়েছিল এবং ২০২১ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নিতে তারা ব্যর্থ হয়েছিল।
এবারও তাই বাংলাদেশের কাছে পরাজয়ের ধাক্কার সঙ্গে ওভার রেটের সম্ভাব্য শাস্তি যোগ হলে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের হিসাব কিছুটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সময়মতো নির্ধারিত ওভার শেষ করাও কামিন্সদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য