খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৪ পিএম
নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইয়ের সময় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. ওয়াজেদ সীমান্তকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৭ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন—অনিক, আকাশ ও চান্ডি বাবু। রায় ঘোষণার সময় তিনজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত ওয়াজেদ সীমান্ত আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন তিনি। সকাল ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় মিন্নত আলী শাহ সাহেবের মাজারের সামনে পৌঁছালে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন।
এ সময় ছিনতাইকারীরা সীমান্তকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও ১ হাজার ৮০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত সীমান্তকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে সীমান্তের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয় এবং ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। নিহত সীমান্ত দেওভোগ এলাকার মো. আলম পারভেজের ছেলে।
আদালত সূত্র জানায়, মামলাটিতে মোট ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষীদের বক্তব্য, উপস্থাপিত নথি এবং অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছান। এরপর বিচারক তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির বিরুদ্ধে এর আগেও ছিনতাই, হত্যা ও মাদকসহ একাধিক মামলা থাকার তথ্য রয়েছে। ফলে সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণার পর মামলাটি শুধু একটি পৃথক হত্যার বিচার হিসেবেই নয়, ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেও গুরুত্ব পেয়েছে।
ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে একজন শিক্ষার্থীর ওপর এমন হামলা এবং পরে তার মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয় মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। সীমান্তের পরিবারের জন্যও দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর আদালতের রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাল। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আসামিদের উচ্চ আদালতে আপিলসহ অন্যান্য আইনি সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি প্রযোজ্য থাকবে।
মন্তব্য