খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই আগস্ট ২০২৬, ২:৫৬ পিএম
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের জেলা কমিটির নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি মিনহাজ হাসানসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক অপর দুজনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোররাতে উপজেলার সাতকুড়ি রেলগেট ও খট্টামাধবপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক মিনহাজ হাসান হিলির লোহাচড়া গ্রামের মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি এর আগে খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দিনাজপুর জেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হাকিমপুর থানা পুলিশ বলছে, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে নজরদারি ও অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মিনহাজ হাসানকে আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একই রাতে মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে মমিন হোসেন ও আরিফ হোসেন নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়। মমিন হোসেন উপজেলার সাতকুড়ি গ্রামের মৃত হবিবর রহমানের ছেলে। আরিফ হোসেন ঘাসুরিয়া গ্রামের মৃত আনিছ মিয়ার ছেলে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা দুজন মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের অভিযানে আটক হয়েছেন।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের যেসব নেতাকর্মী সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়ানোর চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় জেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি মিনহাজ হাসানকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে মমিন হোসেন ও আরিফ হোসেনকে আটক করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।
হিলি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়। বিশেষ করে মাদক পাচার ও কারবার ঠেকাতে সীমান্তবর্তী উপজেলা হাকিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের কার্যক্রম বা পুনর্গঠনের চেষ্টা ঠেকাতেও পুলিশ অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে।
তবে আটক তিনজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ কী নেওয়া হবে, তা তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য