কক্সবাজার শহরের প্রবেশমুখ লিংক রোড এলাকায় যাত্রীবাহী নৈশকোচে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ দুই রোহিঙ্গা কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোপন খবরের ভিত্তিতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৫)-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ২৬ কেজি গাঁজা এবং মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—উখিয়ার কুতুপালং ২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ আইয়াজ (২৫) এবং একই এলাকার কুতুপালং নিবন্ধিত (রেজিস্টার্ড) ক্যাম্পের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী হাসিনা বেগম।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোররাতে কুতুপালং ও আশেপাশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক একটি চক্রের মাদক চোরাচালানের খবর পায় এসআরবি-১৫। সংবাদের ভিত্তিতে আভিযানিক দলটি তাৎক্ষণিকভাবে কক্সবাজার সদর থানার অন্তর্ভুক্ত লিংক রোড এলাকায় একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসায়। এ সময় কুমিল্লা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘সৌদিয়া পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী নৈশকোচ লিংক রোড অতিক্রম করার সময় সংকেত দিয়ে থামানো হয়।
পরবর্তীতে বাসটিতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো শুরু করেন অভিযান পরিচালনাকারী দলের সদস্যরা। তল্লাশির একপর্যায়ে বাসের যাত্রীবেশী মোহাম্মদ আইয়াজ ও হাসিনা বেগমের সঙ্গে থাকা তল্লাশিসংক্রান্ত বিশেষ ব্যাগে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় মোট ২৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাসাবাদে আটক দুই রোহিঙ্গা স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে গাঁজাসহ নানা ধরনের বিপজ্জনক মাদক সংগ্রহ করতেন। পরবর্তীতে সেই চালান কক্সবাজার শহর, টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে সরবরাহ ও বেশি দামে খুচরা বিক্রি করে আসছিলেন।
অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও জব্দকৃত আলামতসহ আটক দুই আসামিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, আটক দুই রোহিঙ্গা কারবারির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশেপাশের এলাকায় মাদকের এই বিশাল নেটওয়ার্কের নেপথ্যে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।


