খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই আগস্ট ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
কুমিল্লার দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি স্লিপার কোচ বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ইলিয়টগঞ্জ রিলায়েবল সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কাছে রয়েল কক্স পরিবহনের কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বাসটিতে আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়লেও যাত্রীরা দ্রুত বাস থেকে নেমে যাওয়ায় এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় পৌঁছানোর পর স্লিপার কোচটি সামনে থাকা একটি গাড়িকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘর্ষের পরপরই বাসের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে তা বাসের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন দেখতে পেয়ে বাসের চালক, কর্মী ও যাত্রীরা দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে বাস থেকে বেরিয়ে আসেন। যাত্রীরা মহাসড়কের পাশে নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং পুরো স্লিপার কোচটি দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। একপর্যায়ে বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
স্থানীয় টামটা গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন মোল্লা জানান, ভোরের দিকে বাসে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। তিনি বলেন, আগুন লাগার পর বাসের যাত্রীরা দ্রুত বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে আগুনের তীব্রতা ছিল অত্যন্ত বেশি এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো বাস আগুনে পুড়ে যায়।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী সাদ্দাম হোসেন বলেন, বাসে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি দ্রুত মহাসড়কের ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, যাত্রীরা ইতোমধ্যে বাস থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন। এরপর আগুন দ্রুত পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মো. ফারুক ইসলাম জানান, সামনে থাকা একটি গাড়িকে ধাক্কা দেওয়ার পর স্লিপার কোচটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি বাসের যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গুরুতর হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও কর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন। পুড়ে যাওয়া বাসটি পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে সাময়িকভাবে আতঙ্ক ও ধীরগতি তৈরি হলেও পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, সংঘর্ষের পরিস্থিতি এবং বাসটির গ্যাস সিলিন্ডারে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে। তবে দ্রুত যাত্রীদের বাস থেকে বের করে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মন্তব্য