খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই আগস্ট ২০২৬, ৪:৮ পিএম
ঢাকার কেরানীগঞ্জে ইট-বালু ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে হাতাহাতি ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। এক পক্ষের দাবি, পাওনা ও নির্মাণসামগ্রীর হিসাব-নিকাশ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত; অন্য পক্ষ বলছে, নিম্নমানের ও পরিমাণে অনিয়মের অভিযোগে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কালিন্দী আতাসুর এলাকার কাজীরগাঁও মৌজায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর শরীফুল ইসলাম কালাম নামে এক ব্যক্তি কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
শরীফুল ইসলাম কালামের অভিযোগ অনুযায়ী, কাজীরগাঁও মৌজায় তার ক্রয় করা ব্যক্তিগত জায়গায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছিল। ওই নির্মাণকাজের জন্য কামরুল ইসলাম ও তার ব্যবস্থাপক শাহীন ইট-বালু সরবরাহ করতেন। তবে সরবরাহ করা নির্মাণসামগ্রীর মান ও পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। শরীফুলের দাবি, এ বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় তিনি তাদের কাছ থেকে ইট-বালু নেওয়া বন্ধ করে দেন এবং অন্য একজন সরবরাহকারীর কাছ থেকে নির্মাণসামগ্রী সংগ্রহ শুরু করেন।
এরপরই বিরোধ আরও বাড়ে বলে অভিযোগ করেছেন শরীফুল। তার ভাষ্য, সরবরাহকারী পরিবর্তনের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে কামরুল ইসলামসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
তবে শরীফুলের এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন কামরুল ইসলাম। তার দাবি, তিনি বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ইট-বালু ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করে আসছেন। শরীফুলের ক্ষেত্রেও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সরবরাহের বিপরীতে এখনো প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কামরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, পাওনা টাকা ও সরবরাহ করা নির্মাণসামগ্রীর হিসাব নিয়ে কথা বলার সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তার ব্যবস্থাপক শাহীন ও শরীফুলের মধ্যে হাতাহাতি হয়। কামরুলের দাবি, শরীফুল তার ব্যবস্থাপককে মারধর করেছেন। পরে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়েও নিজের বক্তব্য দিয়েছেন কামরুল। তিনি বলেন, সরবরাহ করা ইট-বালুর মান নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তাকে জানানো হলে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা যেত। তার দাবি, ব্যবসায়িক লেনদেন ও হিসাব-নিকাশের বিষয়টি নিয়েই মূল বিরোধ তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটিতে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্টতই অভিযোগের ভিন্নতা রয়েছে। শরীফুল যেখানে নির্মাণসামগ্রীর মান ও পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ এবং হামলার অভিযোগ করছেন, সেখানে কামরুলের দাবি পাওনা টাকা ও হিসাব-নিকাশকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রকৃত ঘটনা কীভাবে ঘটেছিল, তা নির্ধারণে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, অভিযোগের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, ইট-বালু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় এক পক্ষ থানায় অভিযোগ করেছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষের অভিযোগের কোনটি সত্য, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। স্থানীয় পর্যায়ে নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ, পাওনা টাকা ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে বিরোধ যেন আরও বড় সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্তব্য