অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয়কে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম সেরা অঘটন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে। পত্রিকাটির সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুই দলের শক্তির যোজন যোজন পার্থক্য এবং অস্ট্রেলিয়ার অচেনা কন্ডিশন—সব প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে টাইগারদের এই জয় বিশ্ব ক্রিকেটে এক নতুন বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
প্রখ্যাত ক্রিকেট বিশ্লেষক জিওফ লেমন ম্যাচটির গভীর পর্যালোচনা করে লিখেছেন, বাংলাদেশ দল ক্যাঙ্গারুদের দেশে কেবল একটি টেস্ট জয়ই উপহার দেয়নি, বরং চার দিনের খেলার প্রতিটি সেশনেই স্বাগতিকদের ওপর একক আধিপত্য বজায় রেখেছে। বিষয়টি আরও বিস্ময়কর এই কারণে যে, অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে টেস্ট খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না বললেই চলে বর্তমান দলের অধিকাংশ ক্রিকেটারের। কেবল ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলের তিনজন খেলোয়াড় ছাড়া পুরো স্কোয়াডের আর কারো অস্ট্রেলিয়ার চেনা উইকেটে খেলার সুযোগ হয়নি।
অথচ এই সফরের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য একেবারেই আশা ব্যঞ্জক ছিল না। মূল টেস্ট সিরিজ শুরুর ঠিক আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার উদীয়মান খেলোয়াড় একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছিল সফরকারীরা। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে অসিদের বিশ্বখ্যাত বোলিং আক্রমণের মুখে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখানো ছিল অভাবনীয়। টেস্টের চারজন বিশ্বসেরা বোলারের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ জয় ছিনিয়ে নিয়েছে, যাদের ঝুলিতে সম্মিলিতভাবে ১,৬০০টিরও বেশি উইকেটের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটির মূল্যায়নে বলা হয়, এই হারকে কোনোভাবেই অসি ক্রিকেটারদের খামখেয়ালিপনা বা বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। অসি একাদশের মনোভাব বা নিবেদনে কোনো কমতি দেখা যায়নি। মূলতঃ ব্যাটারদের বেপরোয়া শট নির্বাচন, বোলিংয়ে সঠিক লাইনের অভাব এবং মানসিক প্রস্তুতির ঘাটতিই স্বাগতিকদের এই অভাবনীয় বিপর্যয়ে ঠেলে দিয়েছে।
এই বিশ্লেষণে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদিনের অনীহার চিত্রটিও নতুন করে সামনে এসেছে। ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর দীর্ঘ আড়াই দশকে টাইগাররা অসিদের বিপক্ষে খেলেছে মাত্র ছয়টি টেস্ট। যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আয়োজিত হয়েছে মাত্র দুটি।
ইংরেজি এই দৈনিকের মতে, ডারউইনের এই ঐতিহাসিক সাফল্য কেবল পরিসংখ্যানের খাতা সমৃদ্ধ করবে না; বরং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মনোবল অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে। একই সঙ্গে এই হারের ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান থেকে ছিটকে গিয়ে বড়সড় ধাক্কা খেল অসিরা।
ফলে ম্যাকেতে নির্ধারিত দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই প্যাট কামিন্সদের সামনে। তবে দ্বিতীয় টেস্টের ফলাফল যাই হোক না কেন, ডারউইনের মাটিতে অর্জিত এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন বাংলাদেশের মতো অদম্য সম্ভাবনাময় দলগুলোকে বেশি বেশি দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ খেলার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়।
মন্তব্য