খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই আগস্ট ২০২৬, ৬:১০ পিএম
ভারতীয় সংগীতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই, কিন্তু তাঁর কণ্ঠ ও সুরের জাদু এখনও কোটি মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত। তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণময় সংগীতজীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ একটি সংগীতচিত্র নির্মাণ করছেন অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমান। ‘আশা ফরএভার’ নামের এই বিশেষ আয়োজনের সঙ্গে এবার যুক্ত হচ্ছেন বলিউড তারকা শাহরুখ খান। তাঁর অংশগ্রহণের খবর প্রকাশের পর প্রকল্পটি ঘিরে সংগীত ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
আশা ভোঁসলে ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল মারা যান। কয়েক দশকের সংগীতজীবনে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের গানকে বহুভাষিক ও বহুমাত্রিক শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর কণ্ঠে প্রেম, বিরহ, আনন্দ, উদ্দীপনা ও আবেগের অসংখ্য গান প্রজন্মের পর প্রজন্ম শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে আছে।
শাহরুখ খানের সঙ্গে আশা ভোঁসলের সম্পর্কও ছিল আন্তরিক ও শ্রদ্ধাপূর্ণ। প্রবীণ এই শিল্পীর প্রতি নিজের মুগ্ধতা ও সম্মানের কথা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ করেছেন শাহরুখ। ফলে তাঁর স্মরণে নির্মিত বিশেষ সংগীতচিত্রে শাহরুখের উপস্থিতি আয়োজনটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
এ আর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পটির সঙ্গে শাহরুখ খানের যুক্ত হওয়ার খবর জানান। সেখানে তিনি অভিনেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে নির্মিত সংগীতচিত্রে অংশ নেওয়ার সম্মতি দেওয়ায় তিনি শাহরুখের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
‘আশা ফরএভার’ শুধু একটি নতুন গান নয়; এটি আশা ভোঁসলের দীর্ঘ সংগীতযাত্রাকে স্মরণ করার একটি সম্মিলিত প্রয়াস। গানটিতে রহমানের নিজের কণ্ঠের পাশাপাশি আশা ভোঁসলের সংরক্ষিত পুরোনো কণ্ঠও ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে নতুন সংগীতায়োজনের সঙ্গে কিংবদন্তি শিল্পীর কণ্ঠের এক আবেগঘন সংযোগ তৈরি হবে।
প্রকল্পটির ধারণা অবশ্য আশা ভোঁসলে জীবিত থাকতেই করা হয়েছিল। রহমান জানিয়েছেন, বিভিন্ন প্রজন্ম, ভাষা, সংগীতধারা ও সংস্কৃতিকে এক জায়গায় এনে তাঁর অসাধারণ উত্তরাধিকার উদযাপনের পরিকল্পনা থেকেই এই আয়োজনের সূচনা। নির্মাতাদের আশা ছিল, ভোঁসলে নিজেও একদিন এই শ্রদ্ধার্ঘ্যের পূর্ণতা দেখতে পারবেন।
জুনে প্রকাশিত সংগীতচিত্রটির প্রচারঝলকেও সেই আবেগের কিছুটা ধরা পড়ে। সেখানে বিভিন্ন পটভূমির শিল্পী, সংগীতশিল্পী ও পরিবেশকদের একসঙ্গে কাজ করতে দেখা যায়। সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর একটি হলো আশা ভোঁসলের নিজস্ব উপস্থিতি। প্রকল্পটির নির্মাণপর্বে তিনি অংশ নিয়েছিলেন এবং রহমান ও অন্য শিল্পীদের সঙ্গে স্টুডিওতে গান ধারণ করতেও দেখা যায় তাঁকে।
রহমান নিজেও পুরো সংগীতপ্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি গানটিতে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পীর সঙ্গে সমন্বয় করে সংগীতচিত্রটির নির্মাণে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর পরিকল্পনায় এটি কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তৈরি একটি সাধারণ স্মরণগীতি নয়; বরং আশা ভোঁসলের সৃষ্টিশীলতার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।
বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে ‘আশা ফরএভার’ প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ গান এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে প্রচারঝলকে আশা ভোঁসলের উপস্থিতি, রহমানের সংগীত পরিচালনা এবং শাহরুখ খানের মতো জনপ্রিয় তারকার অংশগ্রহণ ইতোমধ্যে শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
আশা ভোঁসলের কণ্ঠ ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে এমন এক অধ্যায়, যার প্রভাব কেবল তাঁর সময়ের শ্রোতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নতুন প্রজন্মও তাঁর গান শুনছে, গাইছে এবং নতুনভাবে আবিষ্কার করছে। সেই দীর্ঘ উত্তরাধিকারকে স্মরণ করে রহমানের এই আয়োজন তাই একই সঙ্গে স্মৃতিচারণ, শ্রদ্ধা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এক কিংবদন্তি শিল্পীর সৃষ্টিকে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ হয়ে উঠতে পারে।
মন্তব্য