মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের হিসাব এতে তুলে ধরা হয়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার প্রকাশিত আগের হিসাব অনুযায়ী, মোট মৃত্যু ছিল ১ হাজার ৯৯ জন; এক দিনের ব্যবধানে সেই সংখ্যা আরও পাঁচজন বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৩ জন। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর বড় অংশই এখনো এমন রোগীদের, যাদের ক্ষেত্রে হামের উপসর্গ থাকলেও মৃত্যুর কারণ হিসেবে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়নি।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের। এর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে।
নতুন করে হাম শনাক্ত ৮৪ জনের
মৃত্যুর পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৮৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২১ হাজার ৩৯২ জন।
তবে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত রোগীর বাইরেও বিপুলসংখ্যক মানুষ হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ২৫৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর ফলে চলতি বছরে সন্দেহভাজন বা উপসর্গযুক্ত হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৫১০ জনে।
সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানেও দেখা যাচ্ছে, দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ২৮ সেপ্টেম্বরের হিসাবেও এক দিনে ৯৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত এবং ১ হাজার ১৫৯ জনকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় নিয়মিতভাবে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক রোগী, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হালনাগাদ করা হয়।
হামের ক্ষেত্রে উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণের পরিসংখ্যান আলাদাভাবে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উপসর্গ থাকা সব রোগীর পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয় না। আবার হাসপাতালে আসা বা উপসর্গ থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিরও সব সময় পরীক্ষার আওতায় আসা সম্ভব হয় না। ফলে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এবং সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যার মধ্যে বড় পার্থক্য থাকতে পারে।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, দেশে হাম পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। একদিকে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে আসছেন। এর সঙ্গে প্রতিদিন নতুন মৃত্যুর ঘটনাও যুক্ত হচ্ছে। ফলে রোগ শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ—সব ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।


