নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর পুকুর থেকে সম্রাট হোসেন (৩২) নামে এক কলেজ প্রভাষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে স্থানীয়রা পুকুরে লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। নিহত সম্রাট হোসেন ছিলেন উপজেলার ওয়েস্ট ব্যাংক কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৭টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা আলী আহাম্মদের বাড়ির সামনের মসজিদের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় সম্রাটের লাশ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তিনি ওই এলাকার মইনুল হক রতনের সেজো ছেলে। শিক্ষকতার পাশাপাশি এলাকায় একজন সৎ ও ভদ্র যুবক হিসেবে তার সুনাম ছিল।
নিহতের পরিবার ও বন্ধুদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রোববার থেকে সম্রাট নিখোঁজ ছিলেন। তার স্বজনরা সম্ভাব্য নানা জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো হদিস পাচ্ছিলেন না। সম্রাটের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এনামুল হক মঞ্জু জানান, নিখোঁজ হওয়ার আগে সম্রাট তার সাথে ফোনে কথা বলেছিলেন এবং ডাক্তার দেখানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। মঞ্জু আরও জানান যে, গত এক সপ্তাহ ধরে সম্রাটকে মানসিকভাবে বেশ হতাশাগ্রস্ত ও চিন্তিত মনে হচ্ছিল। বন্ধুকে নিখোঁজ দেখে এনামুল হকই প্রথম পরিবারকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু জিডি করার আগেই সোমবার সকালে তাদের বাড়ির কাছের মসজিদের পুকুর থেকেই মিলল এই শিক্ষকের মরদেহ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. এনায়েত গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, সম্রাট অত্যন্ত ভালো স্বভাবের একজন ছেলে ছিলেন। একজন শিক্ষকের এমন আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার কার্যক্রম শেষ করে।
ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত করে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম জানান, খবর পাওয়ার পর পরই ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ চিহ্নিত করতে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—সে বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য