৩৩ ঘণ্টা পর পায়রা নদী থেকে জুঁইয়ের মরদেহ উদ্ধার

বরগুনায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে পায়রা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুঁইয়ের মরদেহ ৩৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তালতলী উপজেলার জয়ালভাঙা নলবুনিয়া এলাকায় তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র-সংলগ্ন পায়রা নদীর তীরে স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পান।

নিহত জুঁইয়ের বয়স ১৫ বছর। সে রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা। তাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার নরহা গ্রামে।

এর আগে রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ৯ নম্বর এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের লতাকাটা খেয়াঘাট এলাকায় পায়রা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় জুঁই। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বরগুনায় বেড়াতে গিয়েছিল সে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার সকালে বাবা সঙ্গে নিয়ে ঢাকা থেকে বালিয়াতলী ইউনিয়নের লতাকাটা এলাকায় নানা শানু মৃধার বাড়িতে বেড়াতে যায় জুঁই। পরে এক স্বজনের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পায়রা নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় জুঁই পানিতে তলিয়ে যায়।

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে নদীতে জাল টেনে এবং আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে বরগুনা ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, ডুবুরি দল ও সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

নদীর বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানো হয়। তবে রোববার দিনভর এবং পরবর্তী সময়েও জুঁইয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩৩ ঘণ্টা পর সোমবার সন্ধ্যায় জয়ালভাঙা নলবুনিয়া এলাকায় নদীর তীরে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।

স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে সংশ্লিষ্টদের খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহটি উদ্ধার করে। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসনাইন পারভেজ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পায়রা নদীর মতো প্রবল স্রোতযুক্ত নদীতে গোসলের সময় অসাবধানতা বা স্রোতের টানে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। জুঁইয়ের নিখোঁজ হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল দীর্ঘ সময় ধরে নদীতে তল্লাশি চালালেও তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত নদীর অন্য একটি অংশে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

Tags :

ratul Khaborwala

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ খবর