সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাদ্দাম হোসেন নামে এক দুধ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার পাটধারী বাজার এলাকায় ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পিকআপচালকও গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত সাদ্দাম হোসেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার গোয়াল বাথান গ্রামের সাদেক আলীর ছেলে। তিনি পেশায় দুধ ব্যবসায়ী ছিলেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিনের ব্যবসায়িক কাজের অংশ হিসেবে তিনি পিকআপ ভ্যান নিয়ে নাটোরের সিংড়া থেকে শাহজাদপুরের দিকে যাচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরের দিকে পাটধারী বাজারের কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাঁর পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যু হয়। পিকআপচালক গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করেছে—এমন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, দুর্ঘটনার পর একাধিকবার পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় তিন ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা নিহতের মরদেহ মহাসড়কের ওপর রেখে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের ওই অংশে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়কে আটকা পড়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। যাত্রী ও চালকদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু হলে আহতদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হতে পারত। তবে আহত অবস্থায় সাদ্দামের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ডিউটি কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, জরুরি সেবার মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক কিশোর কুমার পাল বলেন, পুলিশ দুর্ঘটনার খবর তাৎক্ষণিকভাবে না পাওয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হলে তাঁরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
পুলিশ জানায়, পরে মহাসড়ক থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অবরোধ প্রত্যাহারের পর ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনাটি ভোরে মহাসড়কের ব্যস্ত অংশে ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পণ্য ও ব্যবসায়িক কাজে চলাচলকারী যানবাহনের পাশাপাশি দূরপাল্লার যানবাহনও ওই সড়ক ব্যবহার করে। ফলে দুর্ঘটনার পর সাময়িক অবরোধে সড়কের দুই পাশে যানজট দ্রুত দীর্ঘ হয়।
ঘটনার পর দুর্ঘটনার কারণ এবং ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের চালকদের ভূমিকা নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

