দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মায়ের হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার পথে যাত্রীবাহী বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিপা মনি নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড-বটতলী এলাকায় দিনাজপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
নিহত শিপা মনি (৯) ফুলবাড়ী পৌর এলাকার উত্তর সুজাপুর গ্রামের ইসতামুল হকের মেয়ে। সে পৌর শহরের নর্থ পয়েন্ট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা রিক্তা পারভিন একই বিদ্যালয়ে আয়া হিসেবে কর্মরত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে প্রতিদিনের মতো মায়ের সঙ্গে স্কুলে যাচ্ছিল শিপা। বাসস্ট্যান্ড-বটতলী এলাকায় সড়ক পার হওয়ার সময় দিনাজপুর থেকে বিরামপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি দ্রুতগতিতে চলছিল। দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থলে না থেমে দ্রুত চলে যায়।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। পরে তাকে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। সকাল ৯টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দিনাজপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ থাকায় উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
পরে সকাল ১০টার দিকে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহম্মেদ হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর বিক্ষুব্ধরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
ফুলবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফেরদৌস আলম জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাসটি আটক করে থানায় রাখা হয়েছে। বাসটির চালক ও সহকারী দুর্ঘটনার পর পালিয়ে গেছেন। তাঁদের আটকের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানায়, নিহত শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড-বটতলী এলাকায় পথচারীদের সড়ক পারাপারের সময় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে বিদ্যালয়গামী শিশুদের চলাচলের সময় সড়কে সতর্কতা বাড়ানো প্রয়োজন। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে পুলিশের তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়াই চূড়ান্ত বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

