রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ৫৫টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানে অস্ত্র, গুলি, মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি অভিযান হয়েছে মিরপুর বিভাগে। এ বিভাগ থেকে ১৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর মতিঝিল বিভাগে ৬১ জন এবং তেজগাঁও বিভাগে ৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে ওয়ারী বিভাগ থেকে ৪৭ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৪৯ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৪১ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৩৩ জন এবং রমনা বিভাগ থেকে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগ ১০ জন এবং সন্ত্রাসবিরোধী ও জঙ্গিবিরোধী বিশেষায়িত ইউনিট সিটিটিসি ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অভিযান চলাকালে পুলিশের হাতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও মাদকদ্রব্যও উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি। পাশাপাশি একটি সুইচ গিয়ার, দুটি হ্যান্ডকাফ এবং একটি খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে ১১ কেজি গাঁজা ও ১৬ হাজার ২২২টি ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া একটি ইলেকট্রিক ট্র্যাকার, দুটি ওয়াকি-টকি, একটি ওজন মাপার যন্ত্র, ১৯টি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন অপারেটরের ২৮টি সিম উদ্ধার করা হয়। অভিযানে নগদ ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অপরাধের ধরন ও সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা অস্ত্র ও মাদকদ্রব্যসহ অন্যান্য আলামত পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও মাদকদ্রব্যের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং মামলাগুলোর প্রকৃতি নিয়েও প্রয়োজন অনুযায়ী তদন্ত করা হবে।
রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে নিয়মিত পুলিশি অভিযান অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ও মাদক সরবরাহের বিরুদ্ধে কার্যক্রম জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি প্রতিটি ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব।

