কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে একটি আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান, একটি মোটরসাইকেল এবং বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার। এর আগে সোমবার রাতে সদর দক্ষিণ থানার লালমাই বাজার এলাকায় পরিচালনা করা এক বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
কুমিল্লা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ্ ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, একদল সশস্ত্র ডাকাত ডাকাতির উদ্দেশ্যে লালমাই বাজার এলাকায় জড়ো হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদ পায় ডিবি পুলিশ। খবরের সত্যতা পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল লালমাই বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। পুলিশি উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে একটি পিকআপসহ দুজনকে আটক করা হয়। একই সময় মোটরসাইকেলে চেপে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে আরও তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ সদস্যরা।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, তারা সদর দক্ষিণ থানার পদুয়ার বাজার এলাকায় একত্রিত হয়েছিলেন। সেখান থেকে কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়ক দিয়ে পরানপুর বাজার এলাকায় গিয়ে বড় ধরনের ডাকাতি সংঘটিত করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই ডিবির জালে ধরা পড়েন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা, চাঁদপুরসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার সড়ক ও লোকালয়ে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি চালিয়ে আসছিল।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—চাঁদপুর সদর থানার হোসেনপুর এলাকার জহিরুল ইসলাম প্রধানিয়া ওরফে ফারুক (৫৩), একই এলাকার রবিউল আলম (৩৫), হাজীগঞ্জ থানার মো. মামুন মিজি (৪৫), ফরিদগঞ্জ থানার মো. কবির ভূঁইয়া (৪০) এবং মো. নজরুল ইসলাম (৩৫)।
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত তালিকার মধ্যে রয়েছে একটি লোহার বেল্ট কাটার, একটি সেলাই রেঞ্চ, একটি প্লাস, একটি লোহার রড, দুটি কাঠের হাতলযুক্ত কিরিচ, একটি কাঠের হাতলযুক্ত হাসুয়া এবং একটি কালো কাপড়ের ব্যাগ। তাছাড়া ঘটনাস্থল থেকে তাদের ব্যবহৃত একটি নীল রঙের পিকআপ ভ্যান ও একটি কালো রঙের বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেল আলামত হিসেবে সাময়িকভাবে জব্দ করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

