সিরাজগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ২, যান চলাচল বন্ধ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের পাটধারী গ্রামের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার গোয়ালবাথান গ্রামের সাদেক আলীর ছেলে ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন (৩০) এবং বগুড়া সদর এলাকার রেজোয়ান হোসেন (৩৫)। তারা দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপে ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোরের দিকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে পিকআপটি একদিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসছিল রডবোঝাই একটি ট্রাক। পাটধারী গ্রামের কাছাকাছি পৌঁছালে দুই যানবাহনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সাদ্দাম হোসেনকে উদ্ধার করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত রেজোয়ান হোসেনকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আহত অপর ব্যক্তির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

দুর্ঘটনার পর নিহত সাদ্দাম হোসেনের মরদেহ সড়কে রেখে স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের সারি তৈরি হয় এবং প্রায় দুই ঘণ্টা সড়কটিতে যান চলাচল ব্যাহত থাকে। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে হঠাৎ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

খবর পেয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ট্রাকটি আটক করে। পরে সলঙ্গা থানা পুলিশের সহযোগিতায় স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং অবরোধ তুলে দেওয়া হয়।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটি আটক করেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক থেকে অবরোধ সরিয়ে দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভোরের সময়ে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও চালকদের সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পণ্যবাহী ভারী যানবাহনের সঙ্গে ছোট যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, চালকদের ভূমিকা এবং গাড়ি দুটির গতিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখা এবং বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের প্রতি সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ভোর ও রাতে দৃশ্যমানতা কম থাকায় এ সময়ে চালকদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় মহাসড়কে অচলাবস্থা তৈরি হলেও পুলিশের উদ্যোগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং সকালেই যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

Tags :

Shakib

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ খবর