বিআরটিসির বিশেষ মহিলা বাসে যাত্রী খরা, বিপাকে কর্মজীবী নারী

রাজধানীতে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালু করলেও উদ্বোধনের পরদিনই দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। রাজপথে বিআরটিসির এই ডেডিকেটেড বাসগুলো অধিকাংশ আসন ফাঁকা রেখে চলাচল করছে, অন্যদিকে সাধারণ গণপরিবহনে যথারীতি নারী যাত্রীদের ভিড় এবং গেটে ঝুলে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের দৃশ্য দেখা গেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাস স্টপেজগুলো ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়ে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে ছেড়ে আসা মতিঝিলগামী একটি দোতলা মহিলা বাস শ্যামলী অতিক্রম করার সময় দেখা যায়, গাড়িটির ওপরের তলা পুরোটাই ফাঁকা। নিচতলায় মাত্র চার থেকে পাঁচজন নারী যাত্রী বসে ছিলেন। অথচ একই সময়ে সাধারণ বাসগুলোতে ওঠার জন্য স্টপেজগুলোতে নারী যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও হুড়োহুড়ি করতে দেখা গেছে। বাসের সংখ্যা কম হওয়া এবং সুনির্দিষ্ট সময়সূচির অভাবে অনেক নারী যাত্রীই এই সেবার সুবিধা নিতে পারছেন না।
উদ্বোধনের পরদিনই এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পেছনে বাস কম থাকা এবং প্রচারণার অভাবকে দায়ী করছেন নিয়মিত যাতায়াতকারী নারীরা। ফার্মগেট এলাকায় কথা হয় কর্মজীবী নারী আসমা আক্তারের সঙ্গে। তিনি জানান, অফিসে সময়মতো পৌঁছানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য। নির্দিষ্ট মহিলা বাসের জন্য অপেক্ষা করলে কখন বাস আসবে আর কখন অফিসে পৌঁছাবেন—তার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। তাই যে বাস আগে আসে, তাতেই উঠতে বাধ্য হন। আরেক যাত্রী সোনালী খাতুন বলেন, উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে চমৎকার। তবে ঢাকা শহরের বিশাল নারী জনগোষ্ঠীর তুলনায় বাসের সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। সরকারের উচিত অবিলম্বে বাসের সংখ্যা বাড়ানো এবং সময়সূচি নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষ বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, আপাতত ঢাকার ৯টি নির্ধারিত রুটে ১০টি বাস নামানো হয়েছে। চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় দুটি করে আরও চারটি বাস এই সেবায় যুক্ত রয়েছে। ঢাকায় সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ১১৪টি নির্দিষ্ট স্টপেজে বাসগুলো থামার কথা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব বাসের চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে নারীদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে সঠিক সমন্বয় ও বাসের সংখ্যা না বাড়ালে ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে।
Tags :

Shakib

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ খবর