হবিগঞ্জে ধানক্ষেত থেকে যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় ধানক্ষেত থেকে আহম্মদ আলী সুজন (৩৫) নামে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মিরাশি ইউনিয়নের রাখী গ্রামের পাকা সড়কের পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৮টার দিকে কয়েকজন শ্রমিক ধান কাটার উদ্দেশ্যে ওই এলাকার একটি ক্ষেতে যাচ্ছিলেন। এ সময় তারা ধানক্ষেতের মধ্যে এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে স্থানীয়রা চুনারুঘাট থানায় খবর দেন।

খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ধানক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে। মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নিহত আহম্মদ আলী সুজন উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের দুলাল মিয়ার ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি রাখী গ্রামের রশিদ মিয়ার মেয়ের জামাই ছিলেন। বিয়ের পর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন। কী কারণে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে, তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। মরদেহের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকায় ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ধানক্ষেত থেকে সুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি তদন্তে পাওয়া তথ্য, ঘটনাস্থলের আলামত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ধানক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রাখী গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার কারণ বা ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Tags :

Shakib

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ খবর