বকেয়া বেতনের দাবিতে চট্টগ্রামে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

চট্টগ্রাম নগরের আতুরের ডিপো এলাকায় বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইত্যাদি জিন্স কারখানার শ্রমিকরা। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে শ্রমিকরা প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করলে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। একপর্যায়ে সড়কে যানজট সৃষ্টি হলে কর্মস্থলগামী মানুষ, পথচারী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে না। নিয়মিত কাজ করেও নির্ধারিত সময়ে পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বেতন-ভাতার পাশাপাশি কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে আরও কিছু ন্যায্য দাবি জানানো হলেও সেগুলোর বিষয়ে প্রত্যাশিত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

শ্রমিকরা বলেন, পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়া গেলেও বাস্তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বেতন বকেয়া থাকায় সংসারের দৈনন্দিন খরচ চালানো, বাসাভাড়া, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় বাধ্য হয়েই তারা কর্মস্থলের বাইরে এসে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বকেয়া বেতন ও ভাতা দ্রুত পরিশোধ এবং শ্রমিকদের অন্যান্য ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন। তারা জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে আতুরের ডিপো এলাকার প্রধান সড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ায় আশপাশের এলাকাতেও এর প্রভাব পড়ে। অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থল ও গন্তব্যে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ।

অবরোধের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে শ্রমিকদের দাবিগুলো শুনে পরিস্থিতি শান্ত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম জানান, গার্মেন্টস শ্রমিকরা বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষ—উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে।

পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সময়মতো পরিশোধ করা কর্মক্ষেত্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাওনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে এবং তার প্রভাব উৎপাদন ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশেও পড়তে পারে। এ কারণে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

  1. এদিকে, সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তৈরি হলেও শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এখন আলোচনার মাধ্যমে কত দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান হয় এবং বকেয়া বেতন পরিশোধে কারখানা কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
Tags :

Shakib

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ খবর