ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফকে (৫৭) গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সোমবার (১৭ আগস্ট) গভীর রাতে রাজধানী ঢাকার একটি গোপন আস্তানা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে নাসিরনগর থানায় দায়ের করা একটি সন্ত্রাসবিরোধী ও নাশকতার মামলা রয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই নেতা গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুল ইসলাম। তিনি জানান, পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল খালেকের করা একটি সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালতে পাঠানো হয় এবং বিজ্ঞ আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
স্থানীয় দলীয় সূত্র ও বাসিন্দাদের থেকে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ। তার গ্রেপ্তারের খবর নাসিরনগরে পৌঁছালে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সংগঠন জোরদারে তার বিশেষ ভূমিকা ছিল, তবে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতার অভিযোগ ওঠে।
পুলিশের মিডিয়া উইং ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, সম্প্রতি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটনের পরিকল্পনা ও অর্থায়নের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। ঘটনার পর থেকেই তাকে ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে অবশেষে তাকে রাজধানীর একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় যৌথ বাহিনীর টিম।
নাসিরনগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অপরাধী ও উসকানদাতাদের বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো থানায় আরও মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

