হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম উপসর্গে নতুন করে ৯৩১ জন শনাক্ত হয়েছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশে হাম উপসর্গে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭১১ জনে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ৯৩১ জন। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাব্যবস্থার আওতায় আসছেন।

এ সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৭ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৭৬ জন। তবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম আক্রান্তদের মধ্যে কারও মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৬ জন হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ জন।

মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও পরিস্থিতির গুরুতর চিত্র উঠে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু হওয়ায় ১৫ মার্চ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত এ ধরনের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২৩ জনে। অন্যদিকে, পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীদের মধ্যে একই সময়ে মোট ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীদের মধ্যে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

হাম পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র

সূচক ১৫ মার্চ–১৯ আগস্ট পর্যন্ত মোট সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়
হাম উপসর্গে শনাক্ত ১,৪৫,৭১১ জন ৯৩১ জন
নিশ্চিত হাম রোগী ১৮,০৭৬ জন ৮৭ জন
হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি ১,২৭,০৭৬ জন
সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র ১,২২,৮০৫ জন
হাম উপসর্গে মৃত্যু ৮২৩ জন ৪ জন
নিশ্চিত হাম রোগীর মৃত্যু ৯৯ জন ০ জন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর ঘটনা এখনো উল্লেখযোগ্য মাত্রায় রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। শিশুদের পাশাপাশি টিকা না নেওয়া বা অসম্পূর্ণ টিকাদানের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি।

তবে হাম উপসর্গে শনাক্ত হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির রোগ পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম হিসেবে গণ্য হয় না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানেও উপসর্গভিত্তিক শনাক্তকরণ এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা আলাদাভাবে দেওয়া হয়েছে। ফলে দুই ধরনের সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে র‍্যাশের মতো হামসদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ধারাবাহিক পরিসংখ্যান পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন রোগী শনাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা এবং মৃত্যুর সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কোন এলাকায় সংক্রমণের চাপ বেশি এবং কোথায় চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন বাড়ছে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

Tags :

Shakib

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ খবর