ইতালির রোমে নগরবাউল জেমসের কনসার্টকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কনসার্টের আয়োজন, অর্থের হিসাব এবং হোটেল কক্ষের পরিচ্ছন্নতা—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এবার হোটেলের কক্ষ নিয়ে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়েছেন জেমসের সফরসঙ্গীরা। তাঁদের দাবি, যে কক্ষের অপরিচ্ছন্নতার ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে জেমস ছিলেন না। ফলে ওই কক্ষের অবস্থার দায় তাঁর ওপর বর্তায় না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথম আলোকে জেমসের মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন জানান, ১৬ আগস্ট রোমে আয়োজিত কনসার্টে অংশ নিতে জেমস ও তাঁর সফরসঙ্গীরা একটি হোটেলের অ্যাপার্টমেন্টে উঠেছিলেন। তাঁদের জন্য মোট চারটি কক্ষ বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে জেমস ছিলেন ৩৪৫ নম্বর কক্ষে। রবিন ছিলেন ২৪৬ নম্বর কক্ষে। অপরদিকে, হোটেল কর্তৃপক্ষ যে ৫৪৯ নম্বর কক্ষের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভিযোগ করেছে, সেখানে ছিলেন দলের অন্য একজন সংগীতশিল্পী।
কনসার্ট শেষে হোটেল থেকে বের হওয়ার পর ওই কক্ষের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে মেঝেতে ব্যবহৃত পানির বোতল, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। খাবারের টেবিলে ব্যবহৃত প্লেট, পলিথিনের ব্যাগ এবং খাবারের উচ্ছিষ্টও ছিল। রান্নাঘরের সিঙ্কে জমে থাকা নোংরা থালা-বাসনের পাশাপাশি কাঁচা ডিম পড়ে থাকার দৃশ্যও ছবিতে দেখা যায়।
হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আয়োজক প্রতিনিধির কথোপকথনের কিছু অংশও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কক্ষটি অপরিষ্কার অবস্থায় রেখে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি, হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ না করেই কক্ষ ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে। এ কারণে কক্ষটি পরিষ্কার করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে বলে জানানো হয়। ভবিষ্যতে একই হোটেলে থাকার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পরিচ্ছন্নতার জন্য অন্তত ২০০ ইউরো পরিশোধের কথাও জানানো হয়।
তবে জেমসের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অভিযোগের সঙ্গে জেমসকে সরাসরি যুক্ত করার কোনো কারণ নেই। রবিন বলেন, দলের সদস্যদের জন্য আলাদা কক্ষ ছিল এবং অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কক্ষে জেমস অবস্থান করেননি। তাঁর ভাষ্য, একজন সংগীতশিল্পীর ব্যবহৃত কক্ষের অবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া অভিযোগকে জেমসের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা সঠিক নয়।
রবিন আরও দাবি করেন, জেমস ও তাঁর সফরসঙ্গীরা গোপনে হোটেল ছেড়ে যাননি। বরং তাঁরা প্রকাশ্যেই হোটেল থেকে বের হয়ে ভেনিসে যান। সঙ্গে ছিল বিপুল পরিমাণ বাদ্যযন্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম। এত লোক ও সরঞ্জাম নিয়ে কারও অগোচরে চলে যাওয়ার অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে রোমের কনসার্টকে কেন্দ্র করে শুধু হোটেল কক্ষ নয়, অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। ইতালির আয়োজক হোসাইন আহমেদ কনসার্টের অগ্রিম অর্থ এবং টিকিট বিক্রির টাকা নিয়ে হিসাবের জটিলতার অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, এসব অর্থের হিসাব নিয়ে জেমসের সফরসঙ্গীদের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশকে ঘটনাস্থলে ডাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
তবে অর্থসংক্রান্ত অভিযোগও অস্বীকার করেছেন রবিন। তাঁর বক্তব্য, অন্যান্য কনসার্টের মতো রোমের অনুষ্ঠান নিয়েও আয়োজকদের সঙ্গে লিখিত চুক্তি হয়েছিল। চুক্তির কোনো শর্ত ভঙ্গ হয়ে থাকলে আয়োজকরা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারেন। তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর সুযোগও রয়েছে।
রবিনের দাবি, জেমস ও তাঁর দল বর্তমানে ইতালির ভেনিসে অবস্থান করছেন এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাঁর মতে, আয়োজকদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যাচাই না করে এসব বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হতে পারে।
রোমের কনসার্ট ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—হোটেলের কক্ষের অপরিচ্ছন্নতার দায় কার, অর্থের হিসাব নিয়ে প্রকৃত বিরোধ কোথায় এবং আয়োজক ও শিল্পীপক্ষের চুক্তিতে কী কী শর্ত ছিল। এসব বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নথি ও আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্য সামনে এলে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

