মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কুমিল্লা জেলায় একযোগে ব্যপক পুলিশি তৎপরতা চালানো হয়েছে। জেলার সবকটি থানার আওতাধীন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত মোট ৪৪টি বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে ৯৩ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এ বিপুল সাফল্যের তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ইশতিয়াক হাসান আমীন।
জেলা পুলিশ প্রশাসন সূত্র জানায়, মাদক চোরাচালানের কৌশল বানচাল করতে এবং এলাকাভিত্তিক মাদক সরবরাহ বন্ধের লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার দিনভর একযোগে এই চিরুনি অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন থানা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, পাইকারি সরবরাহকারী এবং সেবনকারীদের ঘেরাও করে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৪ ঘণ্টার এই বিশেষ অভিযানে উদ্ধার করা হয় মোট ১ হাজার ৫১৭ পিস ইয়াবা বড়ি, ৭২ কেজি গাঁজা, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং সেবনের নানা সরঞ্জামাদি।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রেপ্তারকৃত ৯৩ জনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী বেশ কিছুর বিরুদ্ধে সম্পর্কিত থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে ঘটনাস্থলেই নির্বাহী মেজিস্ট্রেটের পরিচালনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) ও বিচারিক আদালতের সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
অভিযানের ধারাবাহিকতা নিয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইশতিয়াক হাসান আমীন জানান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং কুমিল্লার পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গত ১৬ আগস্ট থেকে জেলা জুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালু রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। জেলাকে মাদক মুক্ত করতে পুলিশের এই বিশেষ এবং আকস্মিক তল্লাশি অভিযান আগামী দিনগুলোতেও আরও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে।


