রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার নির্মম বর্ণনায় কাঁদলেন পুলিশ কমিশনার

রংপুর নগরীর বিশিষ্ট সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের অন্য তিন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার আদ্যোপান্ত বর্ণনায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। রোববার দুপুরে পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পুলিশ প্রধান জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাসাবাদে উঠে এসেছে বীভৎস নির্যাতনের ভয়াবহ সব তথ্য।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে নগরীর মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা মাছ ব্যবসায়ী মুগ্ধ দাস এবং তাঁর মামাতো ভাইয়ের ছেলে জুয়েলারি দোকানের কারিগর সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার বর্ণনায় পুলিশ কমিশনার জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আসামিরা এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে স্থানীয় একজনের বাসায় সেবন করে। পরবর্তীতে তারা পাশেই এক নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ দিয়ে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়ে আবারও ইয়াবা সেবনে লিপ্ত হয়।
ছাদে শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী গলায় গামছা নিয়ে বেরিয়ে এলে আসামিরা সেই গামছা পেঁচিয়েই তাঁকে হত্যা করে। শব্দ শুনে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে ওঠার চেষ্টা করলে সিঁড়িতেই তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। বাবা-মায়ের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসেন তাঁদের ২৫ বছর বয়সী মেয়ে প্রাপ্তি চক্রবর্তী।
প্রাপ্তিকে হত্যার বীভৎস বিবরণ দিতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি পুলিশ কমিশনার। তিনি জানান, প্রাপ্তির প্রাণ যেতে চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগলে আসামিরা তোয়ালে ও দড়ি দিয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে তাঁর মুখ ও গলা পেঁচিয়ে ধরে। এতে তাঁর মুখের চোয়াল ভেঙে যায় এবং চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসে।
পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য, রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ১২ বছর বয়সী ছাত্র প্রিয়ম চক্রবর্তীকে হত্যার কথা বলতে গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন পুলিশ প্রধান। বাচ্চার বয়সী প্রিয়মকে তারা প্রথমে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে এবং পরে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের নির্বিকার ও পৈচাশিক আচরণের চিত্র তুলে ধরে পুলিশ জানায়, চারজনকে হত্যার পর সকাল হয়ে গেলে আসামিরা নিহতের বাড়ির বাথরুমেই নিশ্চিন্তে গোসল সারে। এরপর ডাইনিং টেবিলে থাকা বৈয়াম থেকে খেজুর ও শসা খেয়ে সেখানে বসেই আবারও ইয়াবা সেবন করে। যাওয়ার আগে আলামত নষ্ট করতে নিহতদের ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন সার্ফ এקס মেশানো পানিতে চুবিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। চার সদস্যের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো রংপুরজুড়ে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
Tags :

Shakib

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।