‘টস জিতে বোলিং পেলে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে গুটিয়ে দিত বাংলাদেশ’: স্টুয়ার্ট ব্রড

অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটির আয়ু দুই দিনও পূর্ণ করতে পারেনি। সফরকারী বাংলাদেশকে এক ইনিংস ও ৫১ রানে বড় ব্যবধানে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-১ সমতায় শেষ করেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। তবে ম্যাচের ফল স্বাগতিকদের পক্ষে গেলেও অস্ট্রেলিয়ার পিচ তৈরি এবং অতিরিক্ত বোলারবান্ধব আচরণের দিকে কড়া আঙুল তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক গতি তারকা স্টুয়ার্ট ব্রড। তাঁর মতে, ম্যাকাইয়ের পিচটি এতই পেসবান্ধব ও বিপজ্জনক ছিল যে, বাংলাদেশ যদি টস জিতে আগে বোলিং করার সুযোগ পেত, তবে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকেই হয়তো মাত্র ৬০ রানে গুটিয়ে দিতে পারত!

ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। প্রথম ইনিংসে মিচেল স্টার্কের তোপ ও অতিরিক্ত বাউন্স-সুইং সামলাতে না পেরে বাংলাদেশ দল মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়। জবাবে ক্য়ামেরন গ্রিনের ৬৭ রানের ওপর ভর করে স্বাগতিকেরা করে ২১০ রান। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশি ব্যাটারদের ব্যর্থতা অব্যাহত থাকায় সফরকারীরা মাত্র ৯৫ রানে থামে, যার ফলে মাত্র দুই দিনেই টেস্টের ফয়সালা হয়ে যায়। অথচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে ডারউইনে এই অস্ট্রেলিয়াকেই হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ।

ইউটিউব চ্যানেল ‘ফর দ্য লাভ অব ক্রিকেট’-এ কথা বলার সময় পিচের অতিরিক্ত পেস ও অসম বাউন্স নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখান ব্রড। সাবেক এই ইংলিশ পেসার বলেন, “অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজটি ড্র করতে পেরেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের ক্রিকেট নীতি নিয়ে কিছু বড় প্রশ্ন থেকে যায়। ম্যাচে মিচেল স্টার্ক বিধ্বংসী ফর্মে ছিল, বল চমৎকার সুইং করিয়েছে। তবে পিচের সর্বত্র বলের সীমাহীন বাউন্স আর সুইং যেকোনো দলের জন্যই ভীতিকর ছিল।”

ব্রডের যুক্তিমতে, কোনো দল যদি শক্তিমত্তার বিচারে প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে থাকে, তবে তাদের এমন অতিরিক্ত সবুজ কিংবা বোলারবান্ধব পিচ এড়িয়ে একটু ফ্ল্যাট বা ব্যাটিংবান্ধব উইকেট বানানো উচিত। কারণ, অতিমাত্রায় পেসবান্ধব পিচে টসের ভাগ্য অনেক সময় ম্যাচের মূল ফয়সালা করে দেয়। ব্রড বলেন, “আপনার দল যদি শক্তিতে প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে থাকে, তবে আপনার উচিত সাধারণ বা সমতল পিচে খেলা। এই ম্যাচে বাংলাদেশ যদি টস জিতে আগে বোলিং পেত, তারা অনায়াসে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে অলআউট করে বিরাট বিপদে ফেলে দিতে পারত। ঘরের মাঠে এ ধরনের অতিরিক্ত পেসবান্ধব উইকেট বানানো স্বাগতিকদের জন্যই শেষ পর্যন্ত অযাচিত ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”

পরিসংখ্যানও ব্রডের এই বক্তব্যের পেছনের যুক্তিকে সমর্থন করে। পুরো ম্যাকাই টেস্টে খেলা গড়িয়েছে মাত্র ৭৫০ বল, যা ১৯৩২ সালের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ক্রিকেট ইতিহাসের চতুর্থ সর্বনিম্নে শেষ হওয়া টেস্ট। শুধু তা-ই নয়, ঘরের মাঠে খেলা সর্বশেষ সাতটি টেস্টের মধ্যে তিনটিতেই অস্ট্রেলিয়া দুই দিনের মধ্যে খেলা শেষ হতে দেখেছে। এর আগে গত অ্যাশেস সিরিজে পার্থ ও মেলবোর্ন টেস্টও দুই দিনের বেশি গড়ায়নি। ফলে এ ধরনের পিচে টেস্টের স্বাভাবিক আমেজ নষ্ট হচ্ছে কি না এবং স্পোর্টিং উইকেটের সংজ্ঞাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখন বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে।

Tags :

Shakib

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।