নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ডোবা থেকে উদ্ধার হওয়া এক নিষ্পাপ শিশুর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শেষ পর্যন্ত নির্মম হত্যাকাণ্ডের আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে করা হত্যা মামলায় চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে আদালতে পাঠিয়েছে থানা-পুলিশ। এর আগে রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া চার ব্যক্তি হলেন আতিকুল কাজী (৩২), শান্ত কাজী (২৩), হাবিব কাজী (২১) এবং শিউলী (৩৫)। তারা সকলেই আড়াইহাজার উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা।
পুলিশ প্রশাসন ও নিহতের স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ জুন বিকেল থেকে শিশুটি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো সন্ধান না পেয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় পড়ে স্বজনেরা। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে আড়াইহাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করা হয়। জিডির পরদিন অর্থাৎ ২২ জুন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির পাশের একটি ডোবায় শিশুটির নিথর দেহ ভেসে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। আড়াইহাজার থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
শুরু থেকেই নিহতের পরিবারের অভিযোগ ছিল, শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও হত্যা করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি চিকিৎসকদের দেওয়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পুলিশের হাতে পৌঁছালে সেখানে শিশুটিকে শ্বাসরোধ বা আঘাতজনিত কারণে হত্যা করা হয়েছে মর্মে সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরই পুলিশি তদন্তের গতি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর দায়ের করা নিয়মিত হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ওই চার আসামিকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে গভীরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল কারণ, পারিবারিক কোন্দল বা শত্রুতার জের রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করতে কাজ করছে পুলিশ।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন জানান, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টে শিশুকে স্পষ্ট হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলা দায়েরের পরপরই অভিযানে নেমে মূল চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সোমবার দুপুরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তদন্ত কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে এবং এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


