খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া ও আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় ট্রলারে থাকা ১১ জন জেলের মধ্যে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৬ জন। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে সাগরে তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. এমাদুল সিকদারের মালিকানাধীন একটি ফিশিং ট্রলার ১১ জন জেলেকে নিয়ে ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে গভীর বঙ্গোপসাগরে রওনা হয়। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু রোববার রাত ১০টার দিকে সাগরে হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। তীব্র ঝড় ও উত্তাল তরঙ্গের আঘাতে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার সময় কাছাকাছি অবস্থান করা অন্য একটি ট্রলারের জেলেরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। তারা সাগরে ভাসতে থাকা ৫ জন জেলেকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও বাকি ৬ জন নিখোঁজ হন।
দুর্ঘটনার পর সাগরে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় কোস্ট গার্ড বা স্থানীয় প্রশাসনকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানানো সম্ভব হয়নি। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উদ্ধার হওয়া জেলেরা গভীর সাগরে ভাসমান অবস্থায় মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আসতে সক্ষম হন। এরপরই তারা মুঠোফোনে উপকূলে থাকা তাদের পরিবারের সদস্যদের ট্রলারডুবির ভয়াবহ খবরটি জানান। খবর পেয়ে ট্রলার মালিকের পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত গলাচিপা থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন।
পটুয়াখালীর গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রলার মালিক এমাদুলসহ মোট ১১ জন জেলে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি সাগরে তলিয়ে যায়। সাগরের ওপর ভেসে থাকা ৫ জনকে অন্য ট্রলারের জেলেরা উদ্ধার করলেও ট্রলারের কেবিন বা ভেতরে থাকা অপর ৬ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়া জেলেরা এখনও গভীর সমুদ্রেই অন্য ট্রলারে অবস্থান করছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাদের উপকূলে ফিরতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
নিখোঁজ ৬ জেলের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের দক্ষিণ পানপট্টি গ্রামের মৃত গেদু হাওলাদারের ছেলে মো. হারুন হাওলাদার, একই গ্রামের মো. এমাদুল, গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের মো. ফোরকান, মো. সায়েম ও মো. আল আমিন এবং গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের মো. আকাশ। স্বজনদের নিখোঁজের সংবাদে উপকূলীয় গ্রামগুলোতে এখন শোকের মাতম চলছে।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক এই বিষয়ে বলেন, উদ্ধার হওয়া জেলেদের সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ হয়েছে। নিখোঁজ ৬ জেলেকে জীবিত উদ্ধারে জেলা প্রশাসন ও কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এছাড়া উদ্ধার হওয়া জেলেরা উপকূলে পৌঁছামাত্রই যেন তাদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া যায়, সেজন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগকে আগাম প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাগরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় উদ্ধার অভিযান কিছুটা ব্যাহত হলেও উদ্ধারকারীরা সাগরে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।