খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ৪:৩৮ পিএম
পপ সঙ্গীতের সম্রাজ্ঞী বিয়ন্সে বরাবরই চমক দিতে ভালোবাসেন। ২০২৪ সালে ‘কাউবয় কার্টার’ অ্যালবাম দিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করার পর গত দুটি বছর ভক্তরা নতুন কিছুর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কোনো ধরনের আগাম ঘোষণা ছাড়াই মুক্তি পেল তাঁর নতুন সিঙ্গেল ‘মর্নিং ডিউ (ডঙ্ক)’। হুট করে গানটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।
এই নতুন গানটি কেবল একটি একক গান হিসেবেই আসেনি, বরং এর পেছনে রয়েছে একটি বড় ঘরানার উদ্যাপন। এই ট্র্যাকটি প্রকাশের মাধ্যমে বিয়ন্সের ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল ও মাইলফলক ছোঁয়া অ্যালবাম ‘বি-ডে’র ২০ বছর পূর্তি উদ্যাপনের অফিশিয়াল কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে বাজারে এসেছিল বিয়ন্সের দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘বি-ডে’। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই অ্যালবামটির প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ কপি বিক্রি হয়ে বিশ্বব্যাপী দারুণ সাড়া ফেলেছিল। আগামী সেপ্টেম্বরে এই জনপ্রিয় অ্যালবামের দুই দশক পূর্ণ হতে যাচ্ছে। এই বিশেষ মাইলফলককে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর বিয়ন্সের ৪৫তম জন্মদিনে প্রকাশ পেতে যাচ্ছে ‘বি-ডে’র একটি বিশেষ সংস্করণ, যেখানে সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘মর্নিং ডিউ’ গানটিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
গতকাল গানটি আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রোতাদের মাঝে এলেও এর পেছনের গল্পটি বেশ পুরোনো। মূলত ২০১৩ সালে তাঁর নিজের নামের ‘বিয়ন্সে’ অ্যালবামে রাখার জন্য এই গানটি প্রথম তৈরি করা হয়েছিল। তবে কোনো এক অজানা কারণে সে সময় গানটি আলোর মুখ দেখেনি। অনেক বছর পর, ২০২৩ সালে হঠাৎ করেই এই গানের একটি ডেমো সংস্করণ অনলাইনে ফাঁস বা লিক হয়ে যায়। লিক হওয়ার পর জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টিকটকে গানটি নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে যায়। সাধারণ শ্রোতা থেকে শুরু করে বিয়ন্সের ভক্তরা গানটির পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ শোনার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। অবশেষে ভক্তদের সেই দীর্ঘদিনের দাবি ও আগ্রহের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিয়ন্সের নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান পার্কউড এন্টারটেইনমেন্ট গানটি অফিশিয়ালি মুক্তি দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
একটি সফল গানের পেছনে সবসময় একঝাঁক প্রতিভাবান মানুষের মেধা থাকে। ‘মর্নিং ডিউ’ গানটির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। গানটি যৌথভাবে লিখেছেন স্বয়ং বিয়ন্সে, ফারেল উইলিয়ামস, অ্যাঞ্জেলা শেরি উডস, ড্যারিয়াস ডিকসন এবং টেরিয়াস গেস্টিল্ড-ডায়ামান্ট (যিনি সঙ্গীতজগতে ‘দ্য ড্রিম’ নামে পরিচিত)। গানের চমৎকার সুর ও সঙ্গীত প্রযোজনার দায়িত্ব যৌথভাবে সামলেছেন বিয়ন্সে এবং ফারেল উইলিয়ামস। মুক্তির পরপরই গানটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিকসহ সব নামী স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ঝড় তুলছে এবং জনপ্রিয়তার তালিকায় ওপরের দিকে উঠে আসছে।
গানটি অডিও আকারে মুক্তির পাশাপাশি ভক্তদের ভিজ্যুয়াল ট্রিট দিতেও ভোলেননি এই পপ তারকা। নিজের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে তিনি গানটির একটি চমৎকার সাদাকালো মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন বিয়ন্সের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহকর্মী ও প্রখ্যাত ফটোগ্রাফার ক্লিফ ওয়াটস। এই মিউজিক ভিডিওটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর পুরোনো ও দুষ্প্রাপ্য কিছু দৃশ্য। এতে বিয়ন্সের ২০০৭ সালের বিখ্যাত ‘স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড’ সুইমস্যুট ইস্যুর শুটিংয়ের সময়কার কিছু অপ্রকাশিত আর্কাইভ ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে। নস্টালজিক এই পুরোনো ফুটেজগুলো গানটিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে, যা বিয়ন্সের ভক্তদের মুহূর্তেই দুই দশক আগের চেনা সোনালী স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বিয়ন্সের এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তন সঙ্গীত দুনিয়ায় এক নতুন জোয়ার এনেছে।
মন্তব্য