সোনাগাজীতে পরকীয়ার অপবাদে নারী-পুরুষকে খুঁটিতে বেঁধে মধ্যযুগীয় নির্যাতন

ফেনীর সোনাগাজীতে কথিত পরকীয়ার বানোয়াট অপবাদ তুলে চার সন্তানের এক জননী এবং দুই সন্তানের এক জনককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে চরম বর্বর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে স্থানীয় একদল লোক। শুধু শারীরিক নির্যাতন করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি; ভুক্তভোগী ওই নারীকে তাঁর স্বামীর সঙ্গে সংসার না করার জন্য জোরপূর্বক বিয়ে বিচ্ছেদেরও একতরফা ‘ফরমান’ জারি করা হয়। এই নির্মম ঘটনাটি সোনাগাজীজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে পরদিন মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত সোনাগাজী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হালিম ডাক্তার পুলের গোড়া এলাকায় ভুক্তভোগীদের ওপর এই প্রায় ১৬ ঘণ্টার মধ্যযুগীয় নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে।

পুলিশ, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সোনাগাজী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চরগণেশ এলাকার নুর আলমের স্ত্রী কামরুন নাহার রুমার (৩৫) সঙ্গে পারিবারিকভাবে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে পার্শ্ববর্তী চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ভুঁইয়া বাজারসংলগ্ন এলাকার অলি মাঝি বাড়ির বাসিন্দা এরশাদউল্লাহর (৩৮)। স্বজন হওয়ার সূত্রে সোমবার রাতে এরশাদউল্লাহ ওই নারীর বাসায় যান।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, তাঁরা পারিবারিক বিষয়ে কথাবার্তা বলছিলেন। কিন্তু রাত সাড়ে ১২টার দিকে কোনো কিছু না বুঝে শুনেই প্রতিবেশী ও আশপাশের একদল লোক আচমকা ওই বাড়িতে চড়াও হয়। তাঁরা অনৈতিক সম্পর্কের মিথ্যা অভিযোগ এনে জোরপূর্বক দুজনকে ঘর থেকে বের করে আনে। এরপর রাস্তার পাশে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে দুজনকে একসঙ্গে বেঁধে ফেলা হয়। রাত থেকে শুরু করে পরদিন দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত তাঁদের ওপর লাঠি ও কিল-ঘুষি মেরে নির্যাতন চলতে থাকে।

একপর্যায়ে দুপুরের দিকে কথিত কয়েকজন মাতব্বর একত্র হয়ে রুমাকে তাঁর স্বামীর সঙ্গে আর সংসার না করার নির্দেশ দিয়ে তাৎক্ষণিক একতরফা বিয়ে ভাঙার রোয়েদাদ দেয়। নির্যাতন ও অপমানে ভুক্তভোগীরা শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েন।

বিষয়টি জানাজানি হলে এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান চালিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রুমা ও এরশাদউল্লাহকে বাঁধনমুক্ত করে উদ্ধার করে। সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ধরনের বেআইনি ও অমানবিক নির্যাতন সম্পূর্ণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

Tags :

Shakib

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।