সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক রাজ্যেশ্বর দাশকে (৬৫) গ্রেপ্তার করেছে আশাশুনি থানা-পুলিশ। স্থানীয় প্রশাসনের একটি বিশেষ অভিযানে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) গভীর রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে তাঁকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, রাজ্যেশ্বর দাশ সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সরাফপুর গ্রামের মৃত কার্তিক চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ অর্থবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর স্থানীয় থানায় দায়ের হওয়া একটি নিয়মিত মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি হিসেবে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
আশাশুনি থানা-পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরোয়ানাভুক্ত ও আত্মগোপনে থাকা আসামিদের তালিকায় রাজ্যেশ্বর দাশের ওপর নজরদারি রাখছিল। মঙ্গলবার রাতে গোপন সূত্রে খবর আসে যে তিনি নিজ বাসভবনে অবস্থান করছেন। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পর আশাশুনি থানার একটি চৌকস দল দ্রুত সরাফপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। গভীর রাতে পরিচালিত সেই অভিযানে কোনো ধরনের বাধা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা।
অভিযানের বিষয়ে আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আরিফ নিশ্চিত করে বলেন, রাজ্যেশ্বর দাশ একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মিত মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া সুগম করতে এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হেফাজতে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া ও শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। বুধবার সকালে যথাযথ পুলিশ পাহারায় তাঁকে সাতক্ষীরা নিম্ন আদালতে পাঠানো হলে বিজ্ঞ বিচারক আসামির জামিন আবেদন বাতিল করে জেলা কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।
এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ঝুলন্ত ও নিয়মিত মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে আশাশুনি থানা ও সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ নিয়মিত যৌথ অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে স্পষ্ট করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


