চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পর মো. রুমন আলী নামে এক অটোরিকশাচালকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে শিবগঞ্জ পৌরসভার পিঠালিতলা-পুঁঠিমারি বিল এলাকার একটি আখক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
নিহত রুমন আলী শিবগঞ্জ উপজেলার সেলিমাবাদ গ্রামের একরামুল হকের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২১ আগস্ট সকালে শিবগঞ্জের পাইলিং মোড় এলাকা থেকে অটোরিকশাসহ নিখোঁজ হন রুমন। সেদিনের পর পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ করেন। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছেও সন্ধান নেওয়া হয়। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রুমনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ২৩ আগস্ট শিবগঞ্জ থানায় অপহরণের অভিযোগ করেন তার স্ত্রী নাজমা সুলতানা। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে এবং রুমনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালায়।
এরই মধ্যে বুধবার রাতে আখক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের খবর আসে। স্থানীয় কয়েকজন কৃষক মাঠে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় আখক্ষেতের ভেতরে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মরদেহটি গলিত অবস্থায় থাকায় পরিচয় শনাক্ত করা তাৎক্ষণিকভাবে সহজ ছিল না। তবে মরদেহের পরনে থাকা পোশাক, কোমরের বেল্ট ও স্যান্ডেল দেখে রুমন আলীর স্ত্রী নাজমা সুলতানা সেটি তার স্বামীর মরদেহ বলে শনাক্ত করেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত আরও জোরদার করেছে পুলিশ। রুমন কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন, অটোরিকশাটি কোথায় রয়েছে এবং তাকে ওই আখক্ষেতে কীভাবে নেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ঘটনায় অটোরিকশাসহ মো. ওয়াসিম, রফিকুল ইসলাম ও ওমর ফারুক নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন আসামির প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, পিঠালিতলা-পুঁঠিমারি বিল এলাকার একটি আখক্ষেত থেকে অটোচালক রুমন আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর রুমনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে করা অভিযোগ, মরদেহ উদ্ধারের স্থান এবং গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ—সবকিছু মিলিয়ে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির ভিত্তিতেই মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত আরও স্পষ্ট হবে।


